দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও চালু হচ্ছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা। রোববার (২৯ জুন) থেকে এ ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ ঘোষণা দেন। ।
সম্প্রতি ভারতের ভিসা আবেদনে বেশ কয়েকটি নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। আবেদনের একদিন আগেই নিতে হবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট। দেশের পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে পর্যটন ভিসার আবেদন করা যাবে। এগুলো হলো— ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা।
ভিসা আবেদন করবেন যেভাবে
ইন্ডিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে https://indianvisabangladesh.nic.in/visa/Registration এই ঠিকানায়। এখানে আবেদন ফরম পূরণ করা যাবে। সব ঘর সঠিকভাবে পূরণ করার পর ভিসা আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে।
কীভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করবেন
যেদিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন, তার আগের দিন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পূর্ববর্তী কার্যদিবসে প্রকাশ করা হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাইন-আপ এবং ওয়েবফাইল আপলোড করা যাবে। শুধু যেসব আবেদনকারী সফলভাবে তাদের ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, তাদের জন্য একই দিন বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং শুরু হবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের জন্য https://appointment.ivacbd.com/ সাইন-আপ বাটনে ক্লিক করে ভিসার ওয়েবফাইলে থাকা ইমেইল ঠিকানা দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে।
সাইন-আপ করার পর একটি ওটিপি এসএমএসে যাবে এবং আরেকটি যাবে ইমেইলে। প্রথমে ইমেইলের ওটিপি এবং পরে মোবাইলে পাওয়া এসএমএসের ওটিপি সাবমিট করে ইমেইল ও মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে সাইন-আপ সম্পন্ন করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইন-আপ না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।
সাইন-আপ শেষ হলে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর মোবাইলে ওটিপি পাঠানো হবে। ওটিপি দিয়ে প্রবেশ করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতা চলে আসবে। সেখানে প্রথমে ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্টগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে। আপলোড করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। লগইন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের জন্য নির্বাচিত একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট দেখাবে। সেটি পরিবর্তন করতে চাইলে একবার পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক হওয়ার পর ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে। আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং সেটি ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। পরিবর্তিত, সম্পাদিত বা বিকৃত ফাইল বাতিল করা হবে।
ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
ভিসা আবেদনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি কাগজপত্র জমা দিতে হবে—
১. ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার সময় মূল পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের কপি (প্রথম চার পৃষ্ঠা এবং মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন থাকলে সেটির কপি) জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় পুরোনো সব পাসপোর্টও জমা দিতে হবে।
২. পূর্ণ মুখমণ্ডল দেখা যায় এমন সাম্প্রতিক তোলা (তিন মাসের অধিক পুরোনো নয়) ২×২ ইঞ্চি আকারের রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৩. জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
৪. আবাসনের প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল, যেমন— বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল (ছয় মাসের অধিক পুরোনো নয়)।
৫. পেশার প্রমাণ হিসেবে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তার চিঠি। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সংযুক্ত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হবে।
৬. আর্থিক স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে প্রতিটি আবেদনপত্রের সঙ্গে ১৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি, অথবা পর্যাপ্ত ব্যালান্স প্রদর্শনকারী হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
৭. রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র।
৮. অনলাইন ভিসা আবেদনপত্রের নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
৯. ভিসা আবেদনপত্রের সঙ্গে পুরোনো সব পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। এগুলো ছাড়া ভিসা আবেদন অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে।
ভিসা ফি
ভারত ভিসা ফি নেয় না। তবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি সার্ভিস চার্জ রয়েছে। সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইভ্যাক ১ হাজার ৫০০ টাকা নেয়। এই অর্থ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়।
পাসপোর্ট কীভাবে ফেরত পাবেন
ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আবেদনের সঙ্গে দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস পাঠিয়ে জানানো হবে। এরপর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।