তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমানে যেসব সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অভিযোগ এনেছিল যে তারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। মূলত ফ্যাসিবাদী আমলে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, তা সহযোগিতা করার অভিযোগ কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রয়েছে। আবার অনেকে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার কারণেও কারাগারে ছিলেন।
তবে এসব বিষয়ে যেহেতু বর্তমান বিএনপি সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই, সে কারণে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকদের জন্য যা ন্যায্য, সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে আইনের বাইরে কাউকে কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস-ঐতিহ্য পরিষদ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা ও মনোজগৎ নির্মাণের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। একটি সৃষ্টিশীল কাজ—হোক তা চলচ্চিত্র বা বই—মানুষের চিন্তায় গভীর পরিবর্তন বা ‘প্যারাডাইম শিফট’ ঘটাতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সমাজে মানুষের মনোজগৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের কাজের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের চিন্তার কাঠামো তৈরি হয় এবং সমাজে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম হয়। উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজন, আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক চিন্তাজগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে এই ঐতিহাসিক প্রভাব যেন চিন্তার স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ না করে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে এবং তরুণদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সত্যজিৎ রায়ের মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এই মূল্যবোধ ধারণ ও চর্চার মাধ্যমে সমাজকে আরও এগিয়ে নিতে সৃষ্টিশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বাড়ে, চলচ্চিত্র গবেষক অধ্যাপক মঈন উদ্দিন খালেদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল, অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমেদ, চলচ্চিত্র বিশ্লেষক বিধান রিবেরু এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বক্তব্য প্রদান করেন।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ চলচ্চিত্রপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ওএফ/আরএন