কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাঁর মরদেহ ফরিদপুরের নগরকান্দায় পৌঁছায়। পরে জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার নগরকান্দা উপজেলার সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি (মডেল স্কুল) মাঠে অবতরণ করে। হেলিকপ্টার থেকে তিতাসের মরদেহ নামানোর পর শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।
পরে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় উপজেলার লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। সেখানে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
তিতাসের অকালমৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার। তাঁর মৃত্যুতে নগরকান্দার লস্করদিয়া ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকেলে হেলিকপ্টারে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দায় আনা হয়। পরে জানাজা শেষে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় গোরস্থানে নানীর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আফজাল হোসেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে নগরকান্দার বারখাদিয়া এলাকার টুলু শেখের মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে এ দম্পতির কোনো সন্তান নেই।
তিতাস শেখের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তাঁর মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।