যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী মোসা. রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, বিয়ের পর মিজান ও রেহানা প্রায় ১১ বছর সংসার করেন। তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সংসার চলাকালে মিজান বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। দাবি পূরণ না হলে রেহানাকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে যৌতুক না পেয়ে তাকে হত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন আগে মিজান স্ত্রীর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠালেও তার ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি।২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্বাস বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে পুলিশ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলার নথিতে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রয়েছে।তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, রেহানা আত্মহত্যা করেছেন এবং মিজানকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার তিন কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ও রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে রায় কার্যকরের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
টিআই