ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা ও মাঠপর্যায়ের তদারকিতে গুরুত্ব- ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের কর্মসূচিতে সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর জোর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম আপডেট: ২২.১০.২০২৬ ৮:৪০ পিএম
X
Advertisement

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী জাতীয় প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে সরকার। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়- এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখেই নেওয়া হয়েছে কর্মসূচি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ঘোষিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা নয়; বরং ডেঙ্গু প্রতিরোধকে সরকারি কার্যক্রম ও নাগরিক জীবনের নিয়মিত চর্চার সঙ্গে যুক্ত করা। তবে এই উদ্যোগের চূড়ান্ত কার্যকারিতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর।

গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা থাকা এ কর্মসূচিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশন, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও কর্মসূচির অংশ।

প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধকে শুধু মশা নিধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করা। কারণ, মশার প্রজননস্থল নিয়মিত ধ্বংস করা না গেলে সাময়িক অভিযান দীর্ঘমেয়াদি ফল দিতে পারে না।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গত ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালানো এবং জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেন। আক্রান্তের হার বেশি- এমন এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। এসব নির্দেশনার লক্ষ্য হলো সচেতনতামূলক বার্তাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। 

এর ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার অবস্থা পরিদর্শন করেন । এ ধরনের পরিদর্শন মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করে।

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫১২ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জনে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা সিটির এবং দুজন ময়মনসিংহ সিটির বাসিন্দা।এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের ২৩১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৯৪ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশন ছাড়া) ২৫০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪৬ জন, খুলনা বিভাগের ২০৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৬০ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৬২ জন, রংপুর বিভাগের ৪৪ জন এবং সিলেট বিভাগের আটজন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৬৮ জন।

এ সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ১১১ জন।

এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতির পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ ধ্বংস করা- সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত জাতীয় কর্মসূচির কার্যকারিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু কর্মসূচি ঘোষণা বা উদ্বোধন নয়, নিয়মিত বাস্তবায়ন এবং পরিমাপযোগ্য অগ্রগতি নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের সাফল্য মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবন এবং অব্যবহৃত জিনিসে জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তাই একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত পরিদর্শন, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা। বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া, ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান- সব পক্ষের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি ও আশপাশ পরীক্ষা করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা, ফুলের টবের নিচের পাত্র পরিষ্কার করা এবং পরিত্যক্ত পাত্র সরিয়ে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে নিয়মিত তদারকি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতাকে গুরুত্ব দেওয়ার যে দিকটি সামনে এসেছে, তার বাস্তব ফল পেতে হলে এসব পদক্ষেপকে প্রতিদিনের জীবনযাপনের অংশ করে তোলা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলে সামগ্রিক কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

এ কারণে কোন এলাকায় সংক্রমণ বেশি, কোথায় মশার প্রজননস্থল শনাক্ত হয়েছে, কোথায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং পুনরায় পরিদর্শনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো গেছে কি না- এসব তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে বেশি আক্রান্ত এলাকায় প্রয়োজনভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলানোর প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং নাগরিকদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কর্মসূচির অগ্রগতি ও ফলাফল জনসাধারণের সামনে তুলে ধরলে জবাবদিহি বাড়বে এবং মানুষের অংশগ্রহণও উৎসাহিত হতে পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাইকিং, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় পর্যায়ের নজরদারি তখনই কার্যকর হবে, যখন মানুষ নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত তিন মাসের কর্মসূচি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার একটি প্রচেষ্টা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটি নির্ধারিত হবে মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি ও সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে কোনো একটি পদক্ষেপ এককভাবে যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা, কার্যকর নজরদারি, দ্রুত চিকিৎসা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমে রূপ নিতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টা আরও সুসংগঠিত হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের কাজ নয়, আবার পুরো দায়িত্ব নাগরিকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই। সরকারকে নিয়মিত তদারকি, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে; অন্যদিকে নাগরিকদেরও নিজ নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসূচি ও নির্দেশনার বাস্তবায়ন তাই এখন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সাময়িক কার্যক্রমের বদলে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করা, মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অগ্রগতি পরিমাপ করা গেলে এ উদ্যোগের কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট হবে।

বার্তা একটাই- সরকারি উদ্যোগ চলুক ধারাবাহিকভাবে, নাগরিক সচেতনতা হোক প্রতিদিনের অভ্যাস। সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত বাংলাদেশ।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement