ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠক বর্জন করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে যান।
প্রসঙ্গত, বৈঠকে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেননি।
বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে হাসনাত কাইয়ুম বলেন, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে কোনও ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
হাসনাত কাইয়ুম বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের মতো বিষয় সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে আদালতে তা বাতিল হওয়ার সুযোগ থাকে। এ কারণে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করতে সংস্কার পরিষদ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের কথা থাকলেও ক্ষমতা পাওয়ার পর সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি করেছে। এর প্রতিবাদ জানাতেই তারা বৈঠকে এসেছিলেন।
হাসনাত কাইয়ুম আরও বলেন, সংশোধনের মাধ্যমে করা পরিবর্তন পরবর্তী কোনো সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার পরিবর্তন করতে পারে। আবার সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন হলে উচ্চ আদালতও সংশোধনী বাতিল করতে পারে। তাই জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে পরিবর্তন করতে হলে সেই পরিবর্তনের জন্যও জনগণের ম্যান্ডেট নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন আদেশ সংবিধানবিরোধী এবং সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও ঐকমত্য হয়নি। তবে এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
টিআইএস