ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আবারও কি আগুন-ককটেলে ফিরছে দেশ
রাজধানী থেকে মানিকগঞ্জ-নোয়াখালী, বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতা; রাজনৈতিক নাশকতার অভিযোগের সঙ্গে সামনে এলো উগ্রবাদী তৎপরতার নতুন প্রশ্ন
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম আপডেট: ২০.০৯.২০২৬ ৭:০৪ পিএম
X
Advertisement

রাজধানী ঢাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, ফাঁকা বাসে আগুন, শহরের বাইরে ঝটিকা মিছিল ও বিস্ফোরণ- গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ঢাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাতেও রাজধানীর একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের খবর আসে। একই সময়ে মানিকগঞ্জে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ঝটিকা মিছিল ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের মোটরসাইকেলসহ জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে ঘটনাগুলোর সামগ্রিক তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ফলে মন্ত্রীর বক্তব্য যেমন একটি সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আনছে, তেমনি বিস্ফোরণগুলোর সবকটির মধ্যে একই সাংগঠনিক যোগসূত্র আছে কি না—সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে আছে।

রায়ের পর বিস্ফোরণ, কিন্তু শুরু তার আগেই


১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে সাত আসামিই পলাতক বলে উল্লেখ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তবে বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতা শুধু ওই রায়ের পর শুরু হয়েছে- এমনটি বলা যাচ্ছে না। ১৩ সেপ্টেম্বর সাভারে ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। ১৬ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ে ঝটিকা মিছিল ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে।

অর্থাৎ সময়ের হিসাবে রায়ের আগে ও পরে- দুই পর্যায়েই রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ধারাবাহিকতাই এখন তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।

ঢাকায় এক রাতে একাধিক বিস্ফোরণ

১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, বিটিভি ভবনের সামনের এলাকা ও মগবাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কাফরুল থানার সামনে একটি বাসেও আগুন দেওয়া হয়।

এসব ঘটনার পর ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বিভিন্ন সড়কে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি, টহল এবং নজরদারি বাড়ানো হয়। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃশ্যত কঠোর করা হয়েছে।

কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়- ঘটনার পর চেকপোস্ট বাড়ানো এবং ঘটনার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলো শনাক্ত করা কি একই বিষয়? ধারাবাহিক ছোট বিস্ফোরণগুলো যদি পরিকল্পিত হয়, তাহলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বিনিময় এবং মাঠপর্যায়ে তার ব্যবহার কতটা কার্যকর ছিল- এই প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই খুঁজতে হবে।

ঢাকার বাইরেও একই ধরনের ছক?

রাজধানীর বাইরে মানিকগঞ্জের ঘটনা এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এতে কেউ হতাহত না হলেও ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলে এসে কেউ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে থাকতে পারে; আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ঘটনাটিও আলাদা করে দেখা দরকার। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফলে মোটরসাইকেল, স্বল্প সময়ের ঝটিকা কর্মসূচি, বিস্ফোরণ এবং দ্রুত সরে যাওয়ার যে প্যাটার্ন বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সেটি কেবল কাকতালীয় কি না- তা তদন্তের প্রশ্ন।

তবে এসব ঘটনার সবকটিকে একই গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড বলে ধরে নেওয়ার মতো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত-তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন মোড়

২০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেওয়া কর্মসূচির মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের অন্ধকারে ককটেলবাজি হয়েছে।

হাইকোর্টের সামনে ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফাঁকা অবস্থায় পার্ক করে রাখা কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সরকারের এই বক্তব্য এখন তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যাখ্যা। কিন্তু এখানে একটি পার্থক্য জরুরি- কোনো ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধ- দুটি এক বিষয় নয়। গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ, আলামত, সিসিটিভি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও মামলার তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনার দায় নির্ধারিত হওয়ার কথা।

একই সময়ে উগ্রবাদী তৎপরতার আরেক চিত্র


রাজনৈতিক নাশকতার আলোচনার বাইরে গত শুক্রবার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটকের ঘটনাও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে টেলিফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদে ১১ জনের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক তথ্য না পাওয়ায় তাঁদের অভিভাবক ও সমাজের মুরব্বিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ১২ জনের বিরুদ্ধে ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উগ্রবাদী তৎপরতার জন্য সংগঠিত হওয়ার অভিযোগের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তবে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, একই সময়ে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি উগ্রবাদী সংগঠন গঠনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

ফলে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে শুধু একটি রাজনৈতিক সংঘাতের ফ্রেমে দেখলে সম্ভাব্য অন্য নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে।

তাহলে কি একই পক্ষ?

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- সাম্প্রতিক সব ককটেল বিস্ফোরণের পেছনে কি একই পক্ষ?

এ মুহূর্তে প্রকাশ্য তথ্য থেকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কিছু ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও পুলিশ আটক করেছে, কোথাও সিসিটিভি বিশ্লেষণ চলছে। আবার তেজগাঁও কলেজের ঘটনায় উগ্রবাদী সংগঠন গঠনের অভিযোগে আলাদা একটি তদন্ত এগোচ্ছে।

অর্থাৎ অন্তত তিনটি সম্ভাবনাকে আলাদা করে দেখা দরকার- রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে নাশকতা, স্বতন্ত্র কোনো উগ্রবাদী বা জঙ্গি নেটওয়ার্কের তৎপরতা, এবং এর বাইরে স্থানীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধ। এর কোনটি কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নির্ভর করবে তদন্তে পাওয়া আলামত ও অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের ফলের ওপর।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ- ঘটনার আগে ব্যবস্থা কোথায়?

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক স্থানে স্বল্পমাত্রার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার ঘটনায় শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়; এর পেছনের যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থের উৎস, বিস্ফোরক সংগ্রহ, পরিবহন এবং নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষণের একজন শিক্ষক মনে করেন, কোনো ঘটনার ভৌগোলিক বিস্তার, সময়ের মিল এবং ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ না করলে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না বোঝা কঠিন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও উগ্রবাদী তৎপরতা- দুটি আলাদা সম্ভাবনাকে আলাদা তদন্ত কাঠামোয় দেখা প্রয়োজন।

এখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি কিংবা সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে আগাম তথ্য শুধু থানাভিত্তিক পুলিশের হাতে থাকার কথা নয়; বিভিন্ন গোয়েন্দা ও বিশেষায়িত সংস্থার তথ্য সমন্বয় করে ঝুঁকির জায়গা চিহ্নিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আতঙ্ক তৈরি করাই কি উদ্দেশ্য?

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর একটি লক্ষণীয় দিক হলো- বেশির ভাগ বিস্ফোরণে বড় ধরনের হতাহতের খবর নেই, কিন্তু ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যস্ত বা দৃশ্যমান স্থানে।

বাসস্ট্যান্ড, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, আদালত এলাকা কিংবা নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট স্থাপনার আশপাশে বিস্ফোরণের ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তাই প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু বিস্ফোরক কতটা শক্তিশালী ছিল, তা নয়; কেন নির্দিষ্ট স্থানটি বেছে নেওয়া হলো, সময়টি কীভাবে নির্ধারিত হলো এবং ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে তা ছড়ানো হলো- এসবও তদন্তের অংশ হওয়া দরকার।

কারণ স্বল্প ক্ষয়ক্ষতিতে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করা গেলে সেটিও একটি নিরাপত্তা কৌশল হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে এমন উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা প্রমাণ ছাড়া বলা যায় না।

সামনে তদন্তের বড় প্রশ্ন

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রথমত, ঢাকার বিভিন্ন স্থানের বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, মোটরসাইকেল ব্যবহার করা ব্যক্তিদের গতিবিধি ও পরিচয় কতটা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তৃতীয়ত, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে একই ব্যক্তি, যানবাহন বা সহযোগী নেটওয়ার্কের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে কি না।

এর পাশাপাশি দেখতে হবে, বিস্ফোরকগুলো একই ধরনের কি না, এগুলো কোথা থেকে এসেছে, কোথাও আগাম রেকি করা হয়েছিল কি না এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের কোনো ডিজিটাল প্রমাণ আছে কি না।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- রাজনৈতিক নাশকতা এবং উগ্রবাদী তৎপরতার যে দুটি আলাদা ছবি এখন সামনে এসেছে, তাদের মধ্যে কোনো সাংগঠনিক বা আর্থিক যোগসূত্র আছে কি না। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য দিয়ে এমন যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ককটেলের শব্দে শেষ প্রশ্ন

গত কয়েক দিনে ককটেলের শব্দ শুধু কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা হিসেবে থাকেনি; এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা- তিনটি বিষয়কে একই আলোচনায় এনে দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাগুলোর বড় অংশকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সময়ে তেজগাঁও কলেজের ঘটনায় উগ্রবাদী সংগঠন গঠনের অভিযোগ সামনে এসেছে। ঢাকার বাইরে মানিকগঞ্জ ও নোয়াখালীর ঘটনাও দেখাচ্ছে, বিষয়টি শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়।

তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হলো- প্রতিটি ঘটনাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে আলাদা করে দেখা। কোথায় রাজনৈতিক নাশকতা, কোথায় উগ্রবাদী তৎপরতার অভিযোগ, আর কোথায় অন্য কোনো অপরাধ- এই পার্থক্য স্পষ্ট করতে পারলেই সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু ‘কে ককটেল ছুড়ল’- এতটুকু নয়। প্রশ্ন হলো, কে সংগঠিত করছে, কীভাবে সংগঠিত করছে, কোথা থেকে নির্দেশ বা অর্থ আসছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার আগে সেই প্রস্তুতির কতটা দেখতে পাচ্ছে। সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে, সাম্প্রতিক বিস্ফোরণগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা, নাকি বৃহত্তর কোনো নিরাপত্তা প্রবণতার অংশ।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement