অনলাইনে জুয়া খেলে হারিয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকা। শেষ হয়েছে সঞ্চয়, নষ্ট হয়েছে সম্পদ; ভেঙে পড়েছে সংসারের আর্থিক ভিত্তি। অবশেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ব্যতিক্রমীভাবে প্রকাশ্যে প্রায় ১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে সব ধরনের জুয়া ছেড়ে দেওয়ার শপথ করেছেন খাগড়াছড়ির রামগড়ের যুবক মো. সজিব (২৫)।
শনিবার দুপুরে রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুধ দিয়ে গোসলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।
সজিব রামগড় উপজেলার ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়নের লামকুপাড়া গ্রামের নুরুন নবীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বসে নিজের শরীরে দুধ ঢেলে গোসল করছেন সজিব। এ সময় তিনি জুয়ার কারণে নিজের জীবনে নেমে আসা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। জানান, অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে তার সংসার ও আর্থিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। জুয়ার পেছনে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হারিয়ে বর্তমানে তিনি নিঃস্ব বলেও জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সজিব। একের পর এক অর্থ জুয়ায় খরচ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে তার সঞ্চয় ও সম্পদ শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।
এরপর নিজের ভুল উপলব্ধি করে শনিবার দুপুরে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে আসার শপথ নেন তিনি।
রামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা বলেন, “জুয়ার কারণে ছেলেটি সব হারিয়েছে। ভুল বুঝতে পেরে সে এ পথ থেকে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছে। এখন যদি সত্যিই জুয়া ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, সেটিই তার, তার পরিবার ও এলাকার জন্য ভালো।”
প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল মান্নান বলেন, “প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করা সহজ নয়। তিনি যেন নিজের প্রতিজ্ঞায় অটুট থেকে ভালো পথে থাকেন, সেটাই প্রত্যাশা।”
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম বলেন, জুয়া সরাসরি হোক কিংবা অনলাইনে। দুটিই অবৈধ। এ বিষয়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মাদক ও জুয়াবিরোধী প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
জুয়ার নেশায় সর্বস্ব হারানোর পর সজিবের এ ব্যতিক্রমী শপথ স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি করেছে। এখন নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে তিনি কতটা অটুট থাকতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।
এনএম/এফএস