বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক অস্থিরতার মধ্যেই ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনের এই সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা করছেন।
সম্মেলন শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও অবস্থান জানিয়েছে জোটটি। ইসরায়েলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে ব্রিকস। গাজা পরিস্থিতি এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক চাপ ও শুল্কনীতির পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়েছে সম্মেলনে। একতরফা শুল্ক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে সদস্য দেশগুলো। নির্বিঘ্নে পণ্য, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থা চালু রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যৌথ ঘোষণায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সম্মেলন ব্রিকসের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জোটটির সদস্যদের মধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্ন অবস্থান এবং ভারত-চীনের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থের কারণে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন ছিল। তবুও অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা জোরদারের বার্তা দিয়েছে জোটটি।
এফএস