ফুটবলের দলবদলের বাজারে সাধারণত ক্লাবের অর্থ খরচ করে তারকা খেলোয়াড় কেনার গল্পই বেশি আলোচনায় আসে। তবে এবার সেই চিত্রের পুরো বিপরীত উদাহরণ তৈরি করেছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। খেলোয়াড় বিক্রি করেই এক মৌসুমে সর্বোচ্চ আয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছে স্টামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটি।
২০২৬-২৭ মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করে চেলসি আয় করেছে ৪৪ কোটি ৭৮ লাখ ইউরো। এক মৌসুমে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে এত বেশি অর্থ আয় এর আগে কোনো ক্লাব করতে পারেনি।
চেলসির রেকর্ড গড়ার পথে শেষ বড় সংযোজন ছিল আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়া। তাঁর জন্য সিটি দিয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। এনজোর এই দলবদলই চেলসির রেকর্ডকে দিয়েছে সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
তবে শুধু এনজোর দলবদলেই থেমে থাকেনি চেলসি। আন্দ্রে সান্তোসকে ৫ কোটি ৬৩ লাখ, নিকোলা জ্যাকসনকে ৫ কোটি ৫৫ লাখ, মার্ক কুকুরেয়াকে ৫ কোটি ৫০ লাখ এবং লিয়াম ডেলাপকে ৫ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে বিক্রি করেছে ক্লাবটি।
চেলসির এই রেকর্ড অবশ্য হঠাৎ করে আসেনি। গত কয়েক বছর ধরেই খেলোয়াড় কেনাবেচাকে ক্লাব ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে তারা। এর প্রমাণ মিলছে আগের মৌসুমের হিসাবেও। ২০২৫-২৬ মৌসুমে খেলোয়াড় বিক্রি করে চেলসি আয় করেছিল ৩৩ কোটি ৯২ লাখ ইউরো। দুই মৌসুম মিলিয়ে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে তাদের আয় প্রায় ৭৮ কোটি ইউরো।
চেলসির আগে এক মৌসুমে খেলোয়াড় বিক্রি করে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড ছিল মোনাকোর। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ফরাসি ক্লাবটি খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছিল ৩৬ কোটি ৭২ লাখ ইউরো। ওই রেকর্ড গড়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দলবদলের। পিএসজির কাছে এমবাপ্পেকে ১৮ কোটি ইউরোতে বিক্রি করেছিল মোনাকো। টমাস লেমার ও ফাবিনিয়োর দলবদল থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছিল ক্লাবটি।
এবার মোনাকোর সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে চেলসি। তবে খেলোয়াড় বিক্রির বাজারে চমক দেখিয়েছে আরও কয়েকটি ক্লাব।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলা ২০২৬-২৭ মৌসুমে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ৩৬ কোটি ২ লাখ ইউরো। মর্গান রজার্সের চেলসিতে যাওয়া থেকেই এসেছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। এজরি কনসা, ইউরি টিলেমানস, ওলি ওয়াটকিনস ও ডনিয়েল মালেনসহ আরও কয়েকজনের দলবদল ভিলার আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে নতুন খেলোয়াড় কিনতেও ক্লাবটি খরচ করেছে ৩০ কোটি ২ লাখ ইউরো।
খেলোয়াড় বিক্রিতে পিছিয়ে নেই ম্যানচেস্টার সিটিও। বিভিন্ন খেলোয়াড়ের দলবদল থেকে ৩৩ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ইউরো আয় করেছে তারা। স্যাভিনিও, নিকো গঞ্জালেস, তিজানি রেইন্ডার্স, রদ্রি ও জেমস ট্র্যাফোর্ডদের দলবদল থেকে এসেছে বড় অঙ্কের অর্থ। তবে খেলোয়াড় কেনায় ৫২ কোটি ৬২ লাখ ইউরো খরচ করায় বিক্রি ও কেনার হিসাবে সিটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো।
তালিকায় আরও রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ, বোর্নমাউথ, বেনফিকা ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। আতলেতিকো মাদ্রিদ ২০১৯-২০ মৌসুমে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছিল ৩১ কোটি ৬৩ লাখ ইউরো। আঁতোয়ান গ্রিজমান, লুকাস এরনান্দেজ ও রদ্রির দলবদল থেকে এসেছিল বড় অঙ্কের অর্থ।
বোর্নমাউথ এবার খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ৩১ কোটি ৪ লাখ ইউরো। সেমেনিও, জাবার্নি ও হুইসেনসহ একাধিক খেলোয়াড়ের দলবদল ক্লাবটির আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
খেলোয়াড় তৈরি করে বড় ক্লাবে পাঠানোর পুরোনো ব্যবসায়িক মডেল কাজে লাগিয়ে বেনফিকা ২০২২-২৩ মৌসুমে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে আয় করেছিল ২৮ কোটি ৮৯ লাখ ইউরো। আর ২০১৭-১৮ মৌসুমে ২৮ কোটি ৩৯ লাখ ইউরো আয় করেছিল বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। উসমান দেম্বেলে ও পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াংয়ের মতো তারকাদের বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছিল জার্মান ক্লাবটি।
ফুটবলের দলবদলে তাই বড় গল্প সবসময় নতুন তারকাকে দলে ভেড়ানোকে ঘিরে হয় না। কখনো কখনো বিদায়ের দরজাই খুলে দেয় সবচেয়ে বড় আর্থিক সাফল্যের পথ। এবার সেই গল্পের সবচেয়ে বড় উদাহরণ চেলসি—খেলোয়াড় বিক্রি করেই যারা লিখেছে নতুন বিশ্বরেকর্ড।
-টিএস