যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের শত শত কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৮৮ জন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যে প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চার সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠিত হয়েছে।
দুদকের নথি অনুসারে অভিযোগের তীর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, তৎকালীন সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মাসুম আহমেদসহ বেশকিছু কর্মকর্তাকেও একই সঙ্গে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম আরও বলেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদে পদায়নের আদেশ দিয়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি দেওয়ার নাম করে আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং তাদের পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য সংগৃহীত হয়েছে লেনদেন হয়েছে আরও ২ কোটি টাকা।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। কেবল বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্যই নয়, যুব উন্নয়নের সকল ধরনের কেনাকাটা ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অভিযুক্তরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। অভিযোগে ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তা ছাড়াও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমীর (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই, ঢাকা) এবং আলী হোসেনসহ (নরসিংদী) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট পরিচালিত হত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার অনুসন্ধান টিমের অপর সদস্যরা হলেন-সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।