চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ পেতে দরপত্রে জালিয়াতির অভিযোগে বিতর্কিত ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠিকভাবে বিচার কাজ শুরু হলো।
রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন (দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৫ কোটি টাকা। এই কাজের কার্যাদেশ পেতে জি কে শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স - জিকেবিএল (জেভি)' জাল ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বলে দুদকের তদন্তে উঠে আসে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, দরপত্রে অংশ নেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, শেয়ার সংখ্যা, পূর্বের নির্মাণকাজের অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক সক্ষমতা সংক্রান্ত নথিপত্রে জালিয়াতি করা হয়েছিল। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ১০ বছরের অভিজ্ঞতা, বিগত পাঁচ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণের সনদ এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ বার্ষিক টার্নওভার থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ জমা দিয়ে দরপত্রে অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
দরপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া কোম্পানির নথিপত্র যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) যাচাইয়ের জন্য পাঠায় দুদক। পরবর্তীতে আরজেএসসি-এর পর্যালোচনায় নথিপত্রে অসঙ্গতি ও চরম জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জি কে শামীম ও তার সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে দরপত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করে জালিয়াতির মাধ্যমে কার্যাদেশ বাগিয়ে নেন। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তথা সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর জি কে শামীমসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম। মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭ (জালিয়াতি), ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি), ৪৭১ (জাল দলিল আসল হিসেবে ব্যবহার) এবং ১০৯ (অপরাধে সহায়তা) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৭ মে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক। ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি জামিন পান।
এর আগে, ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে জি কে শামীমের অফিসে অভিযান চালায় র্যাব। সে সময় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদসহ শামীম ও তাঁর সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে দুটি মামলায় ইতিমধ্যে তার সাজা হয়েছে।
এফএস