বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও মার্কিন বিজনেস অ্যাম্বাসেডর অটুল কেসব।
মাহদী আমিন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষ কোম্পানির প্রায় ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত তিন দিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণ, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন ম্যানিফেস্টো ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির পথে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজকের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমরা আশা করছি।
ব্রিফিংয়ে মার্কিন বিজনেস অ্যাম্বাসেডর অটুল কেসবও বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আগ্রহের কথা জানান। তিনি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিনিধিদলে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ইউএস চেম্বার অব কমার্স, এক্সেলারেট এনার্জি, মেটা, ভিসা, ইউএস এক্সপোর্ট কাউন্সিল, মেটলাইফ, উবার এশিয়া গ্রুপ, এপিআর এনার্জি, ভিএফ করপোরেশন, এগ্রিসায়েন্স, সেলসফোর্স, সিসকো, এইচএসবিসি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত তিন দিনের ধারাবাহিক আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি, আর্থিক সেবা, পরিবহন, উৎপাদন ও অন্যান্য খাতে মার্কিন বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেবি/এসএ