ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
কানাডায় বাংলাদেশিদের ফিরতি নোটিশ ও উচ্চ ভ্রমণ সতর্কতা
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম আপডেট: ১২.০৮.২০২৬ ১২:৪৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় অবস্থানরত ও ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য সময়টা চরম অনিশ্চয়তার মুখমুখী। বিদেশি নাগরিকদের জন্য এবার শক্ত হাতে দরজা বন্ধ করতে শুরু করেছে অটোয়া। সরকারের নতুন ও অত্যন্ত কঠোর অভিবাসন নীতির ধাক্কায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) অবিলম্বে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) তালিকার শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় এখন সরাসরি উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম।

একই সময়ে বিদেশিদের ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার মাঝেই নিজেদের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ সফরের ওপর উচ্চমাত্রার ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে কানাডা সরকার। সরকারি এক হালনাগাদ সতর্কবার্তায় জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় হঠাৎ বিক্ষোভ কিংবা সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে জনজীবনে আকস্মিক অচলাবস্থা তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে অপহরণ, রাজনৈতিক সহিংসতা ও সশস্ত্র সংঘর্ষের আশঙ্কায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সব ধরনের সফর সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, অটোয়ার প্রস্তুত করা ‘অবিলম্বে ফেরত পাঠানোর’ তালিকায় এই মুহূর্তে ৯৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। 

তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে করোনা ও বিভিন্ন কারণে কানাডা থেকে ৩০৮ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তবে এবার সেই চিত্র পাল্টে গেছে; চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই এরই মধ্যে ২২৭ জন বাংলাদেশিকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। বর্তমানে কানাডা থেকে ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়ায় থাকা মোট ৪০ হাজার ৮২৭ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার ৬২২ জনই হলেন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী বা রিফিউজি আবেদনকারী। এই ডিপোর্টেশন তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারত (৭,৬৬৯ জন) ও মেক্সিকো (৬,৫৬১ জন)।

কানাডায় বাংলাদেশিদের রিফিউজি আবেদনের এই জটিলতা নিয়ে ইমিগ্রেশন বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিষয়টি বহুগুণ পেঁচিয়ে গেছে। বর্তমানে দুই ধরনের আবেদনকারী কড়া স্ক্রিনিংয়ের মুখে পড়েছেন—প্রথমত, আগের সরকারের আমলে নিপীড়নের দোহাই দিয়ে আসা পুরোনো আবেদনকারী; এবং দ্বিতীয়ত, নতুন রাজনৈতিক পে প্রেক্ষাপটে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির দাবি তুলে করা নতুন আবেদনকারী।

অনেকে স্থায়ীভাবে বাস করার সুযোগ নিতে ভিজিটর ভিসায় বা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট যেমন ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে এসেও রিফিউজি ক্লেইম করছেন। তবে কানাডা সরকার অতীতের ঢিলেঢালা অবস্থান থেকে সরে এসে ডাটা শেয়ারিং ও ডিজিটাল স্ক্রিনিং ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করেছে। ফলে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর আবেদন প্রমাণিত হলেই সরাসরি ডিপোর্টেশনের লাল চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

সমস্যাটি শুধু কানাডাতেই সীমাবদ্ধ নেই, ইউরোপেও একই চিত্র ফুটে উঠছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপে আশ্রয় আবেদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ (প্রায় ৩৬,৯০১টি আবেদন)। তবে চরম বাস্তবতা হলো—কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের কারণে প্রথম ধাপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশিদের মাত্র ৩ শতাংশ আবেদন গ্রহণ করেছে, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশ আবেদনই বাতিল হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, অতীতে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা ভয়ের পরিস্থিতি থাকলেও বর্তমানে তা নেই। তা সত্ত্বেও একশ্রেণীর মানুষ অনিয়মিত উপায়ে বা শর্টকাট পথে বিদেশে স্থায়ী থাকার উদ্দেশ্যে ভূয়া আশ্রয়ের আবেদন করছেন। সরকার রিফিউজি বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে না পারলেও এই ধরনের মিথ্যা তথ্যের আবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করছে।

বাস্তবতা হলো—এই ধরনের ভুয়া আবেদন ও দালালচক্রের খপ্পরে পড়ার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ও ট্রাভেল রেকর্ড চিরতরে ধ্বংস হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা সত্যি সত্যি পড়াশোনা, স্কিলড ওয়ার্ক পারমিট কিংবা বৈধ ভিসা নিয়ে কানাডা বা ইউরোপে যেতে চান, তাদের ক্ষেত্রে ফাইল রিজেকশন রেট এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে। কানাডা সরকারের ৯৬৮ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর কড়া পদক্ষেপ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার: নিয়ম মেনে বৈধ পথে না এলে স্বপ্নের দেশ একদিন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে সময় লাগবে না।


ইমিগ্রেশন খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনিয়মিত উপায়ে কিংবা মিথ্যা তথ্যের ওপর নির্ভর করে স্থায়ী হওয়ার এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও প্রবাসীদের ভাবমূর্তিকে মারাত্মক প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এর সরাসরি প্রভাবে সাধারণ শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও বৈধ ভ্রমণকারীদের ভিসা পাওয়ার পথ দিন দিন আরও কঠিন ও জটিল হয়ে উঠছে।

এসএ

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝