ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আসল নায়ক জনগণ: তারেক রহমান
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম আপডেট: ০৫.০৮.২০২৬ ১:৩৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এর প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এ জাদুঘরের স্মারক ফলক উন্মোচন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফলক উন্মোচনের পর সূরা ফাতেহা পাঠ এবং দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। তিনি জাদুঘরে সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক পরিদর্শনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তাঁর সাথে কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের আন্দোলন।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলে যায়নি, তেমনি ২০২৪ সালের শহীদদের আত্মত্যাগও কখনো ভুলবে না।”

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আজ উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খোলা থাকছে; আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে তাদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সড়কের নামকরণ করা হবে।

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকারের ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর বাস্তবায়ন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তিনি জানান, গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছেন। এতে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।”

গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না, ইনশাআল্লাহ।”

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু শহীদ হয়েছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং হতাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

জাদুঘরে সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘরে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকা উচিত। শহীদদের জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, আলোকচিত্র, ভিডিও, গ্রাফিতি, পোস্টার, স্মারক ও ডিজিটাল উপাদান নিখুঁতভাবে সংরক্ষণের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ইতিহাস রচনায় সত্যতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে বলেন, “অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না; বরং ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার বিচার পর্যায়ক্রমে হবে। আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হবে।


সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি ও তথ্য-সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং সংস্কৃতি সচিব কানিজ মাওলা।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ শাহরিয়ার খান আনসারের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং জুলাই যোদ্ধা নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি আবেগঘন বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কূটনীতিক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝