শুধু ভোট দান বা নির্বাচনই গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয়। সবশ্রেণীর মানুষের ভাল-মন্দ, বিচার বিশ্লেষণ করে গণতন্ত্র তাদের চাওয়া-পাওয়ার মূল্যায়ন করে। দল-মত-নির্বিশেষে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই গণতন্ত্র তথা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ভোট হচ্ছে গণতন্ত্রের একটি মাত্র দিক। ভোটদান ছাড়াও জনগণের আরও গুরুত্বপূর্ণ মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। যা নির্বাচিত সরকার কর্তৃক যথাযথ ভাবে পালনের দাবি রাখে। গণতন্ত্র বলতে সাধারণ ভাবে আমরা বুঝি- সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য আইন বা বিধান প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা জনগণ বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর অর্পণ করা।
গণতন্ত্রের মূল দর্শন হল সবশ্রেণীর মানুষকে সন্তুষ্ট করা। অর্থাৎ মানুষের সেই সব চাহিদা পূরণ- যেমন, দুঃস্থ্য, দরিদ্রদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, সাধারণ জনগণের জন্য কর্ম সংস্থান করা, রাস্তা-ঘাট, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালের সুযোগ নিশ্চিত করা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, দেশ ও বর্হিঃর্বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি ব্যাপারও সরকারের ওপর নির্ভরশীল।
নির্বাচিত সরকার কর্তৃক দেশ ও দেশের জনগণকে ভালবাসা, তাদের সার্বিক কল্যাণ সাধন করাই গণতন্ত্রের বিষয়বস্তু ও পরিধি। এমন সরকার জনগণ চায়না- যারা সুমিষ্ট কথা বলে, ভোট আদায় করে নিজেদের দলীয় স্বার্থে কাজ করেন।
সাম্য ভুলে দল মত, ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কল্যাণে কাজ না করে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধ করার নাম গণতন্ত্র নয়। এবং সেই দলই গণতান্ত্রিক হতে পারে যাদের মধ্যে এসব রাজনৈতিক গুণ রয়েছে। যে দল সরকার গঠন করবে, অন্য দলগুলোরকাজ হচ্ছে সে দলের দোষ-গুণ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা করা। দেশ ও জনগণের পাশে থাকা।
সুতরাং, বলা যায় শুধু ভোটগ্রহণই একমাত্র বিষয় নয়, একটি পর্ব মাত্র। গণতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে- মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ প্রতিষ্ঠা করা, মানবিক- মৌলিক চাহিদা পূরণে সকল প্রকার সাহায্য, সহযোগিতা করা, সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশ তৈরী করে মানবিক উৎকর্ষ অর্জনের পথ সুগম করা ও আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।