ভোরের আলো ফুটতেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় অপেক্ষা শুরু। কেউ এসেছেন দূর জেলা থেকে, কেউবা রাত পেরিয়ে পৌঁছেছেন উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে। সবার চোখে প্রত্যাশা মেঘের ফাঁক গলে দেখা মিলবে বরফে ঢাকা হিমালয়ের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গের। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি। মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরেছেন পর্যটকেরা।
প্রতি বছর শরতের শেষভাগে আর শীতের আগমনী সময়ে পঞ্চগড়ের আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূর থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত নীল আকাশের পটভূমিতে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের অপরূপ দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। সেই সৌন্দর্যের টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন পঞ্চগড়ে। তাঁদের কাছে এই ভ্রমণ কেবল বেড়ানো নয়, বরং প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্য নিজের চোখে দেখার অপেক্ষা।
বৃহস্পতিবারও সেই প্রত্যাশা নিয়েই ভোররাত থেকে অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়তো মেঘ সরে যাবে, দেখা দেবে দূরের পাহাড় এমন আশায় বারবার আকাশের দিকে তাকিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু মেঘের ঘন আস্তরণ সরেনি। বেলা গড়িয়ে দুপুর হলেও কাঙ্ক্ষিত পর্বতশৃঙ্গটি চোখে পড়েনি।
পঞ্চগড়ের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম এই কাঞ্চনজঙ্ঘা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সূর্যের আলোয় বরফে ঢাকা শৃঙ্গগুলো কখনো উজ্জ্বল, কখনো নীলাভ আভায় ধরা দেয়। দূর থেকে দেখা সেই দৃশ্যের টানেই পর্যটন মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিড় করেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া ও আশপাশের উন্মুক্ত স্থানগুলো থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় জড়ো হন অনেকে।
তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা অনেকটাই নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। আকাশে মেঘ, কুয়াশা কিংবা ধোঁয়াশা থাকলে দূরবর্তী পর্বতশৃঙ্গটি দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকে যায়। তাই পঞ্চগড়ে পৌঁছালেই যে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রকৃতির এই অনিশ্চয়তাই কখনো পর্যটকদের জন্য অপেক্ষাকে আনন্দময় করে তোলে, আবার কখনো সেই অপেক্ষা শেষ হয় হতাশায়।
বৃহস্পতিবারও সেই হতাশাই সঙ্গী হয়েছে পর্যটকদের। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দেখা মেলেনি বরফে ঢাকা পাহাড়ের। তবু তাঁদের আশা, আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও দেখা দেবে হিমালয়ের সেই অপরূপ শৃঙ্গ। হয়তো অন্য কোনো ভোরে, মেঘ সরে গিয়ে দিগন্ত উন্মুক্ত হলে, পঞ্চগড়ের আকাশে আবারও ধরা দেবে কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘা।
এমআই/এসএস