গবেষণাক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান স্কুলের সাতটি ডিসিপ্লিনের সাতজন শিক্ষক। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাকর্মের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জীববিজ্ঞান স্কুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন—এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ইয়ামিন কবীর, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক সাধন চন্দ্র স্বর্ণকার, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. অলোকেশ কুমার ঘোষ, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ইফতেখার শামস, ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম এবং সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিল্টন হালদার।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রভাববিস্তারী গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। এ লক্ষ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম প্রধান কাজ হলো মৌলিক গবেষণা। গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে এগিয়ে যাচ্ছে। বড় ধরনের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি হিটের আওতায় আটটি প্রকল্প পেয়েছে। এ সময় তিনি গবেষণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী।
জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নবীউল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁদের গবেষণাকর্ম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা দেন।
একই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পাওয়ায় বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসানকে জীববিজ্ঞান স্কুলের পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হয়।
এসএস/আরএন