আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীর জলঢাকায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। দিনরাত পরিশ্রম করে মাটি, খড়, সুতলি ও কাঠের সাহায্যে তৈরি করছেন দুর্গাপ্রতিমা। তবে উপকরণের দাম বৃদ্ধি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার প্রত্যাশিত পারিশ্রমিক না পাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে জলঢাকার বিভিন্ন মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কারিগররা নিপুণ হাতে মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি, নকশা ও কারুকাজের কাজ করছেন। প্রতিটি মন্দিরের চাহিদা ও নকশা অনুযায়ী তৈরি করা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিমা। প্রতিমার নকশা, সৌন্দর্য ও কাজের ধরন অনুযায়ী পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়।
প্রতিমা তৈরির কয়েকজন কারিগর জানান, এ বছর কাজের তুলনায় ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যে দামে প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন, তাতে লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। হঠাৎ বন্যা ও বৃষ্টির কারণে প্রতিমা তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ মাটি সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। মাটি পাওয়া গেলেও দাম বেশি। পাশাপাশি রং ও প্রতিমার সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। এতে প্রতিমা তৈরির খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।
জলঢাকা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জানান, এ বছর উপজেলায় কতটি মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে, সেই সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্য হাতে এলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
এদিকে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়েছে।
প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মন্দিরগুলোতে প্রতিমা স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কারিগররা। উপকরণের বাড়তি দামের চাপ থাকলেও উৎসবকে ঘিরে তাঁদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান / এফএস