সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সম্রাট বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। গত রোববার (১১ অক্টোবর) সুন্দরবনের শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা জিম্মিদের ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন মইনুর (৫০), বাদশা গাজী (৩৯), সুজন হোসেন (৩৪) ও ইমামুল মল্লিক (২২)। তাঁরা সবাই খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীগুলো নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সম্রাট বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার দুপুর ২টার দিকে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট নলিয়ানের সদস্যরা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে বনদস্যুদের কবল থেকে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা জেলেদের ফেলে বনের গভীরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, গত ১০ অক্টোবর তাঁরা সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে সম্রাট বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের জিম্মি করে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়।
সৈকত মোঃ সোহাগ / এফএস