নিখোঁজ ব্যক্তিদের আইনগতভাবে মৃত ঘোষণার সময়সীমা কমিয়ে ৪৫ দিন করেছে নেপাল সরকার। আগে এ জন্য ১২ বছর অপেক্ষা করতে হতো। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁদের পরিবারের আইনি জটিলতা কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। নতুন বিধান অনুযায়ী, দুর্যোগে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ৪৫ দিন পর মৃত ঘোষণা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার মৃত্যু সনদ সংগ্রহ, ক্ষতিপূরণ দাবি এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আগের তুলনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।
গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ধস ও প্রবল পানির স্রোতে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ হন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
দুর্যোগের পর উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালালেও অনেকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এতে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যু সনদ না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারি সহায়তা গ্রহণ ও বিভিন্ন আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে জটিলতার মুখে পড়ছিল।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব পরিবারের দীর্ঘ আইনি অপেক্ষা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি একই সঙ্গে স্বস্তি ও বেদনার। আইনি প্রক্রিয়া সহজ হলেও স্বজন হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠা তাঁদের জন্য কঠিনই থাকবে।
এফএস