শীতের আগমনী বার্তায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার খাল বিল ও জলাশয়ে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। শীতের শুরুতেই জলাভূমিগুলোতে এসব পাখির আনাগোনা প্রকৃতিতে যোগ করেছে নতুন সৌন্দর্য। তবে অতিথি পাখির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে শঙ্কাও। স্থানীয়ভাবে কিছু অসাধু ব্যক্তি ফাঁদ পেতে এসব পাখি ধরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন খাল বিল, নিচু জমি ও জলাশয়ে শীতের মৌসুমে নানা প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। এসব পাখির মধ্যে বক, পানকৌড়ি, বালিহাঁসসহ বিভিন্ন জলচর পাখি রয়েছে। তবে সব প্রজাতির পাখিই পরিযায়ী বা অতিথি পাখি নয়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যাও বাড়তে পারে।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, অতিথি পাখি জলাভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব পাখির অবাধ বিচরণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু ফাঁদ পেতে পাখি শিকার ও বিক্রির কারণে পাখির নিরাপদ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জলাভূমিতে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের আমির হোসেন বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে পাখি ধরে বিক্রি করছেন। অথচ বন্য পাখি শিকার, ধরা ও বেচাকেনার ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রযোজ্য হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজন জনসচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি।
সচেতন মহল মনে করছে, অতিথি পাখি রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন খাল বিল ও জলাশয়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
এসএ