সিনেমার পর্দায় তিনি হয়েছিলেন ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রতিবাদী সেই চরিত্রে মিঠুন চক্রবর্তীকে ভালোবেসেছিলেন দুই বাংলার দর্শক। এবার পর্দার সেই ‘মিনিস্টার’ বাস্তব জীবনেও পেলেন মন্ত্রীর মর্যাদা।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে। একই সঙ্গে তাঁকে দেওয়া হয়েছে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা। বুধবার সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। নিয়োগটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এর আগে উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মিঠুনকে রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে বুধবার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই নিয়োগের ঘোষণা আসে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অধীনে। সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুনের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ভূমিকা কী হবে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতে দেখা যাবে বলে জানা গেছে।
নতুন সরকারের আমলে টালিগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের কমিটিতেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনীতিতেও সক্রিয় মিঠুন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দলটির বিভিন্ন প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন মিঠুন।
পাঁচ দশকের বেশি সময়ের চলচ্চিত্রজীবনে বাংলা ও হিন্দি সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার রয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর। অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিসরেও সক্রিয় তিনি। এবার রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন এই অভিনেতা।