ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আজ মধ্যরাত থেকে সারাদেশে ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের ইলিশ আহরণ নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা চলবে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। 
প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। 


পদ্মা-মেঘনায় কঠোর নজরদারি


চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। অভয়াশ্রম এলাকায় মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। 

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। এ এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 

দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও মোহনায়ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান জোরদার করা হবে। কোথাও সব ধরনের মাছ আহরণ এবং কোথাও ইলিশ আহরণের ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।


 জেলেদের সামনে ২২ দিনের দুশ্চিন্তা


নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নদীনির্ভর জেলে পরিবারগুলো। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় অনেক জেলেই এরই মধ্যে ঋণের চাপে রয়েছেন।

জেলেরা জানান, নৌকা ও ট্রলার মেরামত, নতুন জাল কেনা, জ্বালানি তেল, বরফসহ মাছ ধরার আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে তাদের স্থানীয় দাদনদার-মহাজন, এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। ভরা মৌসুমে বেশি মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের আশা থাকলেও এবার অনেকেই প্রত্যাশিত মাছ পাননি।

বৈরী আবহাওয়া, অবৈধ জালে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন এবং নদীর নাব্যতাসংকটকে ইলিশ কম পাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন পরিবার চালানো এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেক জেলে।


 ভিজিএফ সহায়তা পাবেন জেলেরা


নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলেদের সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারকে ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। 

চাঁদপুরে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৫১ হাজার ১৯০ জন বলে জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে। তবে জেলেদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা পরিবারের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

চাঁদপুরের হরিনা এলাকার জেলে করিম ভূঁইয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাল সহায়তা পাওয়া গেলেও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে তা যথেষ্ট নয়। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।


কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি


নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, মা ইলিশ শিকার করলে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভয়াশ্রম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। 

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে কাউকে নদীতে নামতে দেওয়া হবে না। আইন অমান্য করলে মৎস্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাবে। পাশাপাশি অবৈধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ, বরফকল, আড়ত ও বাজারে নজরদারি এবং প্রজননক্ষেত্র থেকে নিষিদ্ধ জাল অপসারণেও জোর দেওয়া হচ্ছে। 


শুধু অভিযান নয়, দরকার জেলেদের নিরাপত্তা


চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদীকেন্দ্রের মৎস্য বৈজ্ঞানিক রিজভী কায়সার ও গবেষণা সহকারী আব্দুস সালাম বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক অভিযান যথেষ্ট নয়। মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষার পাশাপাশি জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে নিষেধাজ্ঞার সুফল ধরে রাখা কঠিন হবে।

চাঁদপুর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজমগীর হোসেন বলেন, জেলেদের নিয়ে ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত হবে। এর ফলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনের কঠোরতার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকা ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।



Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement