ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি: বন অধিদপ্তর
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে , সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছে বন অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড এবং ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কটকা অভয়ারণ্য থেকে দূরে সাগরে একটি সন্দেহজনক নৌযানকে জেলেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনরক্ষীরা ধাওয়া করে এবং চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজের সম্পৃক্ততা ছিল না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ৩ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ভ্রমণসূচি অনুযায়ী বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য এলাকার কাছে পর্যটকবাহী দুটি জাহাজ ‘দি ওয়েভ-২’ ও ‘আরাল সি’ অবস্থান করছিল। একই সময়ে কটকা থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সাগরের দিকে কয়েকজন জেলেকে একটি সন্দেহজনক নৌযান তাড়া করার ঘটনা ঘটে।

কটকা ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তানভীর হাসান ইমরান জানান, রাত ৯টার দিকে একজন জেলে তাকে ফোন করে জানান, সাগরে পাশধারী জেলেদের পাঁচ-ছয়জনের একটি দলকে একটি দল তাড়া করছে। খবর পেয়ে তিনি নিজে ও তার দল অস্ত্রসহ অফিসের ট্রলারে করে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন।

তিনি জানান, কাদেরের খালের সাগরসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দূর থেকে সন্দেহজনক ট্রলারটি দেখা যায়। ট্রলারটি থামানোর জন্য আলো দিয়ে সংকেত দেওয়া হলে সেটি উল্টো দিকে সাগরের দিকে দ্রুত চলে যায়। পরে ট্রলারটি থামাতে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ধাওয়া করা হয়। তবে দূরত্ব বেশি থাকায় নৌযানটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং কোস্টগার্ডের কচিখালী ক্যাম্পকে জানানো হয়।

তানভীর হাসান ইমরানের দাবি, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘কটকায় পর্যটন জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়। অথচ এ বিষয়ে কোনো গণমাধ্যম তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি তার নাম ব্যবহার করে বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় পর্যটকবাহী দুটি জাহাজ কটকা অফিসের সামনে অবস্থান করছিল। সন্দেহজনক নৌযানটি ছিল ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে। পর্যটকবাহী জাহাজ দুটি সম্পূর্ণ নিরাপদে সেখান থেকে চলে যায়। ওই ঘটনার সঙ্গে পর্যটকবাহী জাহাজের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

বন অধিদপ্তরের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীও ঘটনাটিকে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা বলতে নারাজ। তিনি বলেন, কটকায় ডাকাতির কোনো ঘটনা বা কোনো জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা হয়নি। কটকা ক্যাম্পে ডাকাতদের বিষয়ে খবর আসার পর বনরক্ষীরা তাদের ধাওয়া করে। ঘটনাটি পর্যটকবাহী লঞ্চ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন ডাকাতরা পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে এগিয়ে আসছিল। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তার সঙ্গে এ বিষয়ে মূলধারার কোনো গণমাধ্যম যোগাযোগ করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ডাকাতদের ধাওয়া করে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা সত্য। তবে সেটি ছিল সুন্দরবনে বন বিভাগের নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রতিটি পর্যটকবাহী জাহাজে বন বিভাগের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর কোস্টগার্ড ঘটনাটি মাঠপর্যায়ে যাচাই করেছে। এমভি ওয়েভ-২-এর পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের কেউই জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা বা এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখেছেন বা শুনেছেন বলে জানাননি।

তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ডের টহল দল দ্রুত পর্যটকবাহী জাহাজটির কাছে যায়। তবে সেখানে ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। কটকা ফরেস্ট অফিসের কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক নৌযানটি সাগর থেকে আসছিল। এ ধরনের নৌযান দূর থেকেই জাহাজের লোকজনের চোখে পড়ার কথা। কিন্তু জাহাজে থাকা কেউ এমন কিছু দেখেছেন বলে জানাননি।

সুন্দরবনে বর্তমানে বড় কোনো শক্তিশালী ডাকাত বাহিনী সক্রিয় নেই বলেও জানান কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, গত কয়েক মাসে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের কাছে শতাধিক বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাদের অস্ত্রও জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কয়েকটি ছোট দল থাকলেও তারা পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা করবে এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যখন সুন্দরবনে শক্তিশালী ডাকাত বাহিনী সক্রিয় ছিল, তখনও পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কোস্টগার্ডের বাড়তি দল ও নির্ধারিত টহল কার্যক্রম থাকে।

এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল জানিয়েছে, তারাও বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো পর্যটক, জাহাজ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা নিয়মিত টহল দেয়। সন্দেহজনক নৌযান দেখলে তা থামানোর জন্য ফাঁকা গুলি ছোড়াও তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ। ৩ অক্টোবর রাতেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই ঘটনাকে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা হিসেবে উপস্থাপনের কোনো ভিত্তি তারা পাননি।

এদিকে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার খবরকে সম্পূর্ণ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন। গতকাল খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, প্রকাশিত ঘটনার সঙ্গে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজের সম্পৃক্ততা নেই।

সংগঠনটির দাবি, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে পাওয়া একটি সন্দেহজনক নৌযানের খবর যাচাই করতে বন বিভাগ অভিযান চালালেও সেখানে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই রাতে পর্যটকবাহী জাহাজে থাকা পর্যটকরাও কোনো গুলির শব্দ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করেননি।

পর্যটন মৌসুমের শুরুতে এ ধরনের ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত সংবাদ সুন্দরবনের পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং পর্যটকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টোয়াস। সংগঠনটি সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।

এভারগ্রীন ট্যুরসের মালিক ও টোয়াসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে সাংবাদিকদের উচিত তা যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা। কেউ একটি তথ্য দিল আর সেটি যাচাই না করে প্রকাশ করে দেওয়া সাংবাদিকতার জন্য ভালো নয়। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা হলে সুন্দরবনের পর্যটনশিল্প আরও এগিয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা, কোস্টগার্ড এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, ৩ অক্টোবর রাতে সুন্দরবনের কটকা এলাকায় একটি সন্দেহজনক নৌযানকে ধাওয়া এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা বা ডাকাতির প্রস্তুতির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
 
 সৈকত মোঃ সোহাগ/ এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement