বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে পারেনি দিনাজপুরের কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সারারাত ধরে মেরামতের কাজ চালিয়েও সচল করা সম্ভব হয়নি বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি ইউনিট। ফলে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রটির কোনো ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। জাতীয় গ্রিডেও যোগ হচ্ছে না এই কেন্দ্রের কোনো বিদ্যুৎ।
মঙ্গলবার ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে সর্বশেষ সচল থাকা ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট। এর আগে সোমবার প্রায় একই সময়ে আইঅ্যান্ডসি (ইন্সট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল) সেকশনের বৈদ্যুতিক লাইনে শর্টসার্কিটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট।
কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, কারিগরি মেরামতের পর দুটি ইউনিটকে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগবে। প্রকৌশলী ও কারিগররা ২৪ ঘণ্টাই মেরামতের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
কেন্দ্রটি সচল থাকাকালে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট থেকে প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো।
জানা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলের আট জেলার কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাশে দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট নিয়ে কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়।
সব মিলিয়ে ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কেন্দ্রটিতে কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ইউনিটটি পুনরায় সচল করতে আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ১ ও ৩ নম্বর ইউনিটও বন্ধ থাকায় পুরো কেন্দ্র থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কেন্দ্রটির অবদানও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এফএস