ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সিরিয়াসলি বিবেচনা করছে
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারে পানি সংরক্ষণ যাচাই করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আগ্রহী এবং বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি বিবেচনা করছে। তবে, প্রকল্পের অর্থায়ন চীন, বাংলাদেশ নাকি অন্য কোনো দেশ করবে সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সরকার আগ্রহী এবং খুব সিরিয়াসলি আগ্রহী। ফান্ডিং চায়নার হবে, না আমাদের হবে, না অন্য কোনো দেশের হবে এটা একটা ডিফারেন্ট আলোচনা। প্রাথমিকভাবে আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা এই পরিকল্পনাটা করতে চাই কিনা। তো আমরা তো করতে চাই।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় একটি পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তনের কারণে পরিকল্পনাটি নিয়ে নতুন করে কিছু কাজ করতে হচ্ছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার আগের ধারণা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে প্রাথমিকভাবে নেওয়া পরিকল্পনায় মূলত নদীশাসনের বিষয়টি ছিল। তিস্তা এলাকায় বর্ষাকালে ব্যাপক নদীভাঙন হয় এবং কোথাও কোথাও নদীর প্রস্থ ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, সেখানকার প্রপোজাল ছিল এটাকে খনন করে, পাড়টাকে শক্ত করে নদী একটা ভাঙনটা রোধ করা এবং ল্যান্ড রিক্লেইম করা। আমরা যদি এটাকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, আশেপাশে প্রচুর ভূমি যেটা বর্ষার সময় ডুবে যায় বা ভেঙে যায়, সেটাও আমরা পেতে পারি। এই ধরনের একটা পরিকল্পনা ছিল। তবে, এখন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় পানি সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

জাহেদ উর রহমান জানান, তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা পদ্মা ব্যারাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে কিন্তু আমরা ওয়াটার রিটেইন করার চেষ্টা করছি। বর্ষার পানি জমিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, যাতে আমরা শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা হলেও ব্যবহার করতে পারি।

তবে, তিস্তায় পানি ধরে রাখার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কারণ হিসেবে তিস্তার খরস্রোতা নদী হওয়া এবং দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সেই জিনিসটা তিস্তায় ছিল না। তিস্তার কাজটা কঠিন, কারণ হচ্ছে তিস্তা অনেক খরস্রোতা, অনেক দ্রুত পানি নেমে যায়। তারপরও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, তারা একটা পরিকল্পনা করতে পারবেন।

এখন তিস্তা পরিকল্পনায় নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা পরিকল্পনায় নদীক্ষেত্রের যে কথাটা বলা হয়েছিল, ভাঙন রোধ তো আছেই, এটা এখন পানি সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেই ব্যাপারে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে। সরকার খুবই আন্তরিক এই প্রচেষ্টা করার জন্য।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রকল্পের অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। চীন, বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোন দেশের অর্থায়ন কোনটি হবে, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ফান্ডিং কীভাবে না হবে, সেটা ওপেন অ্যান্ডেড। আমি এটুকু নিশ্চিত করছি, বাংলাদেশ তার স্বার্থের জন্য, স্বার্থের পক্ষে যায় এমন যে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, কোন উৎস থেকে অর্থ নিলে বাংলাদেশের জন্য সুবিধা হবে অথবা বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে করলে সুবিধা হবে তা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই ফান্ড কার জন্য, কার কাছ থেকে নিলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে বা আমরা নিজেরা করলে সুবিধা হবে সে তার মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি। এটা একটা স্বাধীন সার্বভৌম সরকার, যে সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অর্থায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কারিগরি বিষয়গুলোতে সহযোগিতার মতো একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে, প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কাকে দিয়ে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

তিনি বলেন, চায়না প্রাথমিক যে টেকনিক্যাল আমাদের কিন্তু ওখানে একটা সমঝোতার মতো হয়েছে যে টেকনিক্যাল যে বিষয়গুলো আছে তারা সাহায্য করবে। কিন্তু প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কাকে দিয়ে হবে, কীভাবে হবে এই সিদ্ধান্ত এখনও অনেকটা দূরে আছে।

টিআই
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement