প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের কার্যক্রমকে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’র ফাঁকে তিনি এ সাক্ষাৎকার দেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে দ্বিপক্ষীয় সফর। তবে সফরের আগে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘প্রধান চ্যালেঞ্জটি খুব বেশি কিছু চাওয়া নয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর দল দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং তাঁরা দিল্লিতে বসে একটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এটিও ভারতের জন্য কোনো লাভের বিষয় নয়।’
ভারতকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারত বা দুই দেশের সম্পর্ক- কোনোটির জন্যই ইতিবাচক নয়।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রায় দুই হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটাতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের অতীতের সঙ্গে একটি ‘স্পষ্ট বোঝাপড়া’ প্রয়োজন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা এ আলোচনাকে স্বাগত জানায়।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। ভারত তাঁদের (শেখ হাসিনা ও তাঁর দলকে) নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে না।’
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘অনুকূল সময়ে’ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে তিনি ভারত সফর করবেন না।’
ভারতীয় হাইকমিশনারের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন এবং আলোচনার পথ সুগম করার চেষ্টা করছেন। দিল্লি তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দিলে বাংলাদেশ সব বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে একটি ‘বাধা’। তবে বাংলাদেশ সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে ভারতের কাছ থেকেও ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করে ঢাকা।
তিনি বলেন, ‘দুটি সরকার যখন জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয়ই সমাধানের জন্য আলোচনা করা যায়।’
বাংলাদেশ যেমন ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেবে না, তেমনি ভারতের কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে ঢাকা—জানান হুমায়ুন কবির।
এর আগে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বা ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ‘আমরা শক্তিশালী অংশীদারত্ব চাই, তবে একই সঙ্গে আমরা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনও চাই।’
পরে দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিটি দেশই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। ভারতও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়, বাংলাদেশও চায়। মূলত একটি দেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাই এ ধারণার মূল কথা।
-টিএস