দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ১৬ নম্বর মুজিবনগর ইউনিয়নের বাংলাবাজার ঘাটে নতুন পল্টন এসে পৌঁছেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হলেও পল্টনে যাত্রী ওঠানামার জন্য সিঁড়ি বা গ্যাংওয়ে না থাকায় সেই আনন্দ এখন ক্ষোভ ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই নৌপথে নতুন পল্টন স্থাপনের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের আশা, পল্টনটি পূর্ণাঙ্গভাবে স্থাপন করা হলে ঢাকাগামী দূরপাল্লার লঞ্চ সরাসরি বাংলাবাজার ঘাটে ভিড়তে পারবে। এতে চরফ্যাশনের তেতুলিয়া নদীর পাড়ের বিচ্ছিন্ন মুজিবনগর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
স্থানীয়দের মতে, উন্নত নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে বর্তমানে সিঁড়ি বা গ্যাংওয়ে ছাড়াই পল্টনটি ঘাটে পড়ে থাকায় বাস্তবে এর সুফল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাধারণ যাত্রী কীভাবে নিরাপদে পল্টনে উঠবেন এবং সেখান থেকে লঞ্চে যাতায়াত করবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিঁড়ি ছাড়া পল্টনটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। লঞ্চ ঘাটে ভিড়লেও নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা না থাকলে যাত্রীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় সিঁড়ি বা গ্যাংওয়ে স্থাপন করে বাংলাবাজার ঘাটটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরাপদভাবে চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন নতুন পল্টনের পাশাপাশি নিরাপদ ওঠানামার অবকাঠামো যুক্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। দ্রুত সিঁড়ি স্থাপন করে ঘাটটি চালু করা হলে নৌ-যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটি বাস্তব সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
এসএফ/আরএন