লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রথম পর্যায়ে ৬৫৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষকদের হাতে এসব কার্ড তুলে দেওয়া হয়। একই সময়ে ফেনীর ফুলগাজী থেকে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে কৃষকদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে কৃষকদের ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
রামগতিতে প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ৬ নম্বর চর আলগী ইউনিয়নের রামদয়াল বাজার সংলগ্ন কৃষি ব্লকের তিনটি ওয়ার্ডের ৬৫৮ জন কৃষক পরিবারের মাঝে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু সহিষ্ণু ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থসামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা আরও সরাসরি ও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া এমপি, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম এমপি, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলা ও ৭৭টি কৃষি ব্লকের মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে প্রথম ধাপে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। নির্বাচিত কৃষকদের কার্ড বিতরণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ কেনার জন্য নির্ধারিত কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য এ ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উপকূলীয় রামগতিতে কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, লবণাক্ততা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উৎপাদন ব্যয়ের বাড়তি চাপ মোকাবিলা করে কৃষিকাজ করে আসছেন। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা ও কৃষি প্রণোদনা সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় কৃষকেরা উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসই/এফএস