চীনা অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায়। প্রায় ৪ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রকল্পে চীনা সরকারের জিটুজি ঋণ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর আওতায় ৩৬৮ মিটার দীর্ঘ দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি লোডেড ও খালি কনটেইনার সংরক্ষণের জন্য বড় ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আধুনিক সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
এ ছাড়া পশুর চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখতে ৩৩০ দশমিক ৯০ লাখ ঘনমিটার সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হবে। বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল।
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনায় ভারতের ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল) যুক্ত হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি নিয়ে ভারতের তৎপরতা কমে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোংলা বন্দর উন্নয়নে চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় মোংলা বন্দর উন্নয়ন ও এর পাশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি সই হয়।
সম্প্রতি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বন্দর চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, চীনা সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে। দুটি নতুন কনটেইনার জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিউল হক বলেন, চীনের সঙ্গে এ সহযোগিতা শুধু বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আধুনিক শিল্প ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে ওঠার সুযোগও বাড়বে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন জেটির পাশাপাশি আধুনিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা ও গ্যান্ট্রি স্থাপন প্রয়োজন। একই সঙ্গে কনটেইনার পরিবহন বাড়ানো এবং বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড, ড্রেজিং ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। সমন্বিতভাবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এর প্রভাব দেশের সুনীল অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
জেইউ/ এফএস