ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আন্দোলনের মুখে সাত দিন ধরে সার্কিট হাউসে চুয়েটের নতুন ভিসি
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিয়োগ পাওয়ার পর সাত দিন ধরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। ক্যাম্পাসে তীব্র আন্দোলনের কারণে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে উপাচার্যের চেয়ারে বসতে পারেননি তিনি।

তবে সার্কিট হাউস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছেন নতুন উপাচার্য।

এদিকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নবম দিনের মতো আন্দোলন করেছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। এদিন চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ মিছিল করেন তারা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতিও চলছে। ফলে টানা নয় দিন ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে চুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড়কে প্রশাসনের নীরবতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।

এ সময় তারা ‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই’, ‘ভিসি স্যার, ভিসি স্যার, সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, টানা আন্দোলনের পরও তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার আন্দোলনের অষ্টম দিনে অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিনের দায়িত্ব স্মরণে মুখোশ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগের দিন গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন এমন আশঙ্কায় কয়েক দফা প্রধান ফটকে অবস্থান ও পাহারা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই তার বিরোধিতা করে আসছেন আন্দোলনকারীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’। বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা। পরে আন্দোলনে যুক্ত হন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না গিয়ে অনলাইনে যোগ দেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, খুব দ্রুত ক্যাম্পাসে যাবেন এবং তার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধান করা হবে।

পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন উপাচার্য জানান, তিনি চট্টগ্রামেই অবস্থান করছেন এবং সার্কিট হাউস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। 

তার দাবি, ‘গুটি কয়েক শিক্ষার্থী’ আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী তাকে উপাচার্য হিসেবে চান বলেও তিনি দাবি করেন। 

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্টরা তার সঙ্গে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করছেন এবং শিগগিরই তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে যাবেন।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তারা তাকে সহযোগিতা করছেন। 

ক্যাম্পাসে কবে যাবেন এ বিষয়ে তখন নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তিনি। 

তবে সবার সঙ্গে সমঝোতা হলে দ্রুতই ক্যাম্পাসে যেতে পারেন বলে জানিয়েছিলেন।

এদিকে নতুন উপাচার্যের এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তাকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পরদিন ‘৫৬ দিনের মাথায় কেন?’ প্রশ্ন তুলে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা করেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিনের দায়িত্ব স্মরণে মুখোশ মিছিল এবং আজ চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করেন তারা।

কর্মবিরতিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতিও অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে জরুরি সভায় শিক্ষক সমিতি সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। আবাসিক হল ও জরুরি সেবা এ কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। পরে কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতিও এতে সংহতি জানায়।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিয়মিত কর্মবিরতির পাশাপাশি উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কর্মবিরতি তৃতীয় দিনে গড়ায়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের একমাত্র দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা। আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় তারাও দ্রুত সংকটের সমাধান চান।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসেই অবস্থান করছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। বুধবার সকাল থেকে তিনি সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement