খুলনা ওয়াসার একটি প্রকল্পের চূড়ান্ত বিলের নথি পর্যালোচনায় একই সংযোগের বিপরীতে দুবার বিল দাখিলের অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামসহ ১৩ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) খুলনা ওয়াসার সচিব মাহেরা নাজনীন স্বাক্ষরিত নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, খুলনা ওয়াসার ভোক্তাদের জন্য ৫ হাজার সংযোগের পাইপ ও সরঞ্জাম স্থাপনসংক্রান্ত কাজের দাখিল করা চূড়ান্ত বিলের নথি পর্যালোচনায় একই সংযোগের বিপরীতে দ্বিতীয়বার বিল দাখিলের বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে ওই বিল দাখিলকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিয়মপ্রসূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। দায়িত্ব পালনে তাঁর চরম উদাসীনতা ও অবহেলার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০১৪-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল ইসলাম বলেন, তিনি একা নন; চারজন সহকারী প্রকৌশলী ও আটজন উপসহকারী প্রকৌশলীসহ মোট ১৩ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীরা বিলের হিসাব সংযোজন ও যাচাই করেন। এরপর তাঁর কাছে পাঠানো হলে তিনি তাতে প্রতিস্বাক্ষর করেন। এ প্রকল্পের এক-দুটি বিলে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি বড় ভুল নয়। আমি শুধু বিলে স্বাক্ষর করেছি।’
নোটিশ পাওয়া চার সহকারী প্রকৌশলী হলেন। সরদার রফিকুল আলম, বিপ্লব কুমার মজুমদার, আশিকুর রহমান ও মারুফুল হক।
একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে আশরাফ নামের এক ব্যক্তির নাম থাকলেও কাজটি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না। তিনি একসময় খুলনা ওয়াসার পরিচালকও ছিলেন।
সূত্রগুলোর আরও দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওয়াসায় ভুয়া বিল এবং একই কাজের বিপরীতে একাধিকবার বিল করার অভিযোগ রয়েছে। তবে অন্যের লাইসেন্সে কাজ করায় তিনি সরাসরি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ওই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালে করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমিনুল ইসলাম মুন্না পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সৈকত মোঃ সোহাগ / এফএস