দিনাজপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ৪৮১ প্রার্থীর মধ্যে ১২৩ জন নিয়োগ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সে কারণ জানতে চান তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে জড়ো হয়ে এসব প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কারণ জানতে চান। তাদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্রবিরোধী কাজ বা মামলার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও শেষ মুহূর্তে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। দিনাজপুর জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ৪৮১ জন। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ এম শাহজাহান সিদ্দিক তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেন।
এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হলে দেখা যায়, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ৪৮১ জনের মধ্যে ৩৫৮ জন নিয়োগ পেয়েছেন। বাদ পড়েছেন ১২৩ জন।
উপজেলাভিত্তিক বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে খানসামায় ১৩ জন, ঘোড়াঘাটে ১৭, চিরিরবন্দরে ১০, সদরে ২, নবাবগঞ্জে ৮, পার্বতীপুরে ২, ফুলবাড়ীতে ৯, বিরলে ১৮, বোচাগঞ্জে ১১, হাকিমপুরে ৩, বিরামপুরে ২ এবং বীরগঞ্জে ১৯ জন রয়েছেন। এছাড়া কাহারোলে ৯ জন বাদ পড়েছেন।
বাদ পড়া প্রার্থীদের কয়েকজন বলেন, “আমরা কোনোভাবেই রাজনীতি, রাষ্ট্রদ্রোহী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমাদের নামে কোনো মামলাও নেই। তারপরও কেন আমাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেটি আমরা জানতে চাই।”
বিরল উপজেলার সামসুন নাহার, বোচাগঞ্জ উপজেলার সুমন সরকার ও মো. সেলিম রেজাসহ উপস্থিত প্রার্থীরা বলেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কী কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানার অধিকার তাদের রয়েছে। তারা নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কারণ প্রকাশের দাবি জানান।
প্রার্থীরা আরও বলেন, উপজেলা-ভিত্তিক কাটমার্কের মাধ্যমে তাদের কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মেধাক্রমে উত্তীর্ণ হয়েও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রার্থীরা জানান, বাদ পড়ার বিষয়টি জানতে তারা প্রথমে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে গিয়ে কথা বলতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম তাদের আগামীকাল রোববার দেখা করার কথা জানান। পরে তারা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কারণ জানতে চান।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কিছুই অবগত নই। আমাদের পরীক্ষাতেও ডাকা হয়নি। কী কারণে তারা বাদ পড়েছেন, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। আমাদের কিছু করার বা বলার নেই।”
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিয়োগের শেষ পর্যায়ে ভেরিফিকেশনের নামে শত শত প্রার্থী বাদ পড়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এমদাদুল হক মিলন / এফএস