জ্বালানি তেলের (ডিজেল) মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ভোলার ঢাকা-বেতুয়া (চরফ্যাশন) নৌরুটের লঞ্চগুলোতে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারিভাবে নির্ধারিত হারের তোয়াক্কা না করে লঞ্চ মালিক ও কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। হঠাৎ করে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কারণে এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই লঞ্চ রুট।
ভুক্তভোগী একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেলের দাম বৃদ্ধির আগে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া রুটে লঞ্চের ডেক (সাধারণ স্থান) ভাড়া ছিল ৪০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ডেকের ভাড়া বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ডাবল কেবিনের ভাড়াও বাড়িয়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
লঞ্চঘাটে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তেলের দাম বাড়লে ভাড়াও কিছুটা বাড়তে পারে। তাই বলে একলাফে ডেকের ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিনের ভাড়া ৩০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া স্পষ্টতই অন্যায়। এটি কোনো যৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি নয়, বরং সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার শামিল। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ, যারা নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করেন, তাঁরা অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লঞ্চের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ যাত্রীদের। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং লঞ্চ কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতাকেই এর জন্য দায়ী করছেন তাঁরা।
যাত্রীদের দাবি, অবিলম্বে ঢাকা-বেতুয়া রুটে মনগড়া ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি চার্ট অনুযায়ী সঠিক ভাড়া কার্যকর করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
ঢাকা-বেতুয়া (চরফ্যাশন) নৌরুটের এমভি তাসরিফ লঞ্চের স্থানীয় ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম সোহাগ জানান, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত; এখানে তাঁদের কিছু করার নেই। তবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার লঞ্চের ভাড়া গড়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশন (বেতুয়া) রুটের লঞ্চগুলোতেও ভাড়ার ওপর প্রভাব পড়েছে এবং বর্তমানে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “তেলের দাম যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, ভাড়া সে পরিমাণ বাড়ানো যৌক্তিক। তবে এভাবে প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি করা সম্পূর্ণ খামখেয়ালিপনা।”
এসএফ/আরএন