সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজারেরও বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের যোগদান ও পদায়নের রোডম্যাপ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ রোডম্যাপ সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়। আদেশের একটি কপি বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাগো নিউজের হাতে আসে।
মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের অনুকূলে নিয়োগপত্র আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জারি করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীর অনুকূলে নিয়োগপত্র জারি করা না হলে কারণ উল্লেখ করে (কোটা ও মতামতসহ) তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে। এরপর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়নের আদেশ জারি করা হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নিয়োগপত্র জারির আগে প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাতীয়তাসহ মূল আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জমা দিতে হবে যেসব কাগজপত্র
যোগদানের অনুমতির আবেদন ৩ কপি, অঙ্গীকারনামা স্ট্যাম ১ কপি, নিয়োগপত্রের ফটোকপি ১ সেট।
এদিকে যোগদানপত্র দেওয়ার সময় দেখাতে হবে সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল কপি, অনলাইন আবেদনের কপি, প্রবেশপত্র, নাগরিক সনদপত্রে মূল কপি, সিভিল সার্জন প্রদত্ত স্বাস্থ্য সনদের মূল কপি, পোষ্য/ কোটা সনদের মূল কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বনিম্ন ২১ ও সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে। বয়স নিরূপণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগের আগে মূল আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য ও সনদপত্র বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাতীয়তা যথাযথভাবে যাচাই করে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত প্রার্থীদের অনুকূলে নিয়োগ আদেশ জারি করতে বলা হয়েছে।
নির্বাচিত প্রার্থীদের জেলা সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার প্রত্যয়ন এবং ডোপ টেস্ট রিপোর্ট পর্যালোচনা করেও নিয়োগ আদেশ জারি করতে হবে।
নিয়োগপত্র ইস্যুর আগে কোনো ভুলত্রুটি বা অসংগতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রেখে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
সিভিল সার্জন দপ্তরের প্রত্যয়ন বা স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার প্রত্যয়ন না থাকলে কিংবা নেতিবাচক ডোপ টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রাখতে হবে।
এছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন ও এনএসআই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য থাকলে তার অনুকূলে নিয়োগ আদেশ জারি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত নিয়োগপত্রের নমুনা অনুযায়ী নিয়োগ আদেশ জারির আগে প্রার্থীর নাম, মা, পিতা বা স্বামীর নাম, স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ট কলামে মূল আবেদনপত্র অনুযায়ী সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশনাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এসএ