নওগাঁর রাণীনগর-আবাদপুকুর আঞ্চলিক সড়কে পথচারীদের পথরোধ করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ছিনতাই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ছিনতাইকারীরা কয়েকজনকে মারধরের পর তাঁদের পরনের কাপড় কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে যায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চা বাগান কলোনির মো. আফসার আলীর ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুল ও বেলাল (৩৮) এবং নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মো. শহিদুল মণ্ডলের ছেলে মো. নাহিদ হোসেন (২২)।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় নবীর খানের সেডের সামনে নির্জন স্থানে প্রথমে এক হাঁস ব্যবসায়ীর পথরোধ করে ছিনতাইকারীরা। পরে এক ভ্যানচালক এবং দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার আরোহীকেও ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা ও ছয়-সাতটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ছিনতাইকারীদের হামলায় হাবিবুর বাশার, সুজন, এরশাদ, সোহেল ও ফয়সালসহ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে দু-একজনকে মারধরের পর পরনের কাপড় কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে যায় ছিনতাইকারীরা।
ঘটনার পর রাণীনগর থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বিশেষ দল অভিযান শুরু করে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা, রাণীনগর ও আত্রাই থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
পুলিশ জানায়, ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার অভিযানের পর ২০ সেপ্টেম্বর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বাইরুল ও নাহিদ ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ও ভোররাতে চারজন মিলে রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কে দুই দফা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছেন। নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানেও তাঁরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। নাহিদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি মুঠোফোনসহ কয়েকটি মুঠোফোন ও একটি হাসুয়া জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, বাইরুলের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনি প্রায় ১৭ মাস কারাগারে ছিলেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে যেকোনো ধরনের ছিনতাই ও দস্যুতা দমনে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কেএইচ/আরএন