টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া বেকসুর খালাস পেয়েছেন একজন।
সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. ফয়সাল আল মামুন দুই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান স্বপন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- শহরের কলেজ পাড়া এলাকার আতোয়ার রহমানের ছেলে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ এবং শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১)। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।
যাবজ্জীবন পাওয়ারা হলেন- সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন, শ্রীফলিয়াটার মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন, কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক এবং ছিটকীবাড়ী গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন। বেকসুর খালাস পেয়েছেন সঞ্জিত ঘোষ।
এপিপি সাইদুর রহমান স্বপন বলেন, রফিকুল ইসলাম শহরে আকুরটাকুর পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাঁটতে বের হন। শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল লোক তার ওপর আক্রমণ করেন। হামলাকারীরা রফিকুলকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনার পরদিন রফিকুলের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে সদর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে।
এপিপি স্বপন বলেন, তদন্ত চলাকালে ২০১৬ সালে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাজাহান, সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সানিয়াত খান ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড করিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
পরে পুলিশ আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন বলে জানান এপিপি।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং চারজনকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান এপিপি স্বপন।
এসএফ