বরগুনার আমতলীসহ উপকূলীয় এলাকায় ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। তবে উপকূলীয় নদ-নদীতে দেখা দিয়েছে ইলিশের তীব্র সংকট। জেলেদের জালে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না। সাগর-নদীতে জাল ফেলেও নৌকার জ্বালানি ও খাবারের খরচ উঠছে না। ফলে দাদন ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা।
উপকূলের পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর ও আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় ইলিশের বিচরণ কমে যাওয়ায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, নদীতে ডুবোচর, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য জমে নাব্যতা কমে গেছে। কোথাও কোথাও শিল্পকারখানা ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ও উষ্ণ পানির প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
স্থানীয় জেলেরা জানান, কয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে নদীতে জাল ফেললেই ইলিশের দেখা মিলত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যায় না। ফলে অনেক জেলে লোকসান গুনে মাছ ধরা কমিয়ে দিয়েছেন।
পায়রা নদীর জেলে মিরাজ বলেন, "ইলিশ প্রজননের সময় নদীর মিষ্টি পানির দিকে আসে। কিন্তু মোহনায় নাব্যতা কমে যাওয়ায় মাছ নদীতে প্রবেশ করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডুবোচরগুলো অপসারণ করে নদীর গভীরতা ফিরিয়ে আনা না হলে ইলিশের বিচরণ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"
আরেক জেলে রাসেল বলেন, "মোরা এহন নদীতে যাই না, নদীতে মাছ পাই না।"
জেলে শামীম মিয়া বলেন, "আমরা মাছ ধরতে নদীতে যাইয়া মাছ পাই না, অনেক কষ্টে আছি।"
বরগুনা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর ও আন্ধারমানিক নদী এবং উপকূলীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক জেলে ইলিশ আহরণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় জেলেদের বড় একটি অংশ আর আগের মতো নদীতে যাচ্ছেন না।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পায়রা নদীর প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায়, বিষখালী নদীর মোহনায় প্রায় ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার, বলেশ্বরে ১১ দশমিক ৪২ কিলোমিটার এবং আন্ধারমানিকে ১২ কিলোমিটার ডুবোচর রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, "ইলিশের বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা এবং পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে পলি জমে গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ জাল বন্ধ করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।"
জেলেদের দাবি, শুধু নিষেধাজ্ঞা ও অভিযান চালালেই ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, দূষণ বন্ধ, অবৈধ জাল নিয়ন্ত্রণ এবং ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
এসকে/আরএন