রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা মামলায় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সীতাকুন্ডে একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার সহযোগিতায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- মোহাম্মদপুরের বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রিপন ওরফে রিপন মাস্টার ও বাদল ওরফে কাইল্লা বাদল।
মোহাম্মদপুরের আলোচিত দুই অপরাধীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই দুই অপরাধীর পেছনে আমরা দীর্ঘদিন ধরে লেগে ছিলাম। অবশেষে গতকাল বিশেষ সূত্রের তথ্যে তাদের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানার সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাইল্লা বাদল মোহাম্মদপুরের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ পাপু ওরফে কিলার পাপ্পুর অন্যতম সহযোগী। কাইল্লা বাদল দীর্ঘদিন ধিরে পাপ্পুর হয়ে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তা, বসিলা সড়কে ও ফুটপাতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে।
মোহাম্মদপুরে কাইল্লা বাদলের সঙ্গে ন্যাকেট শাকিল, ভান্ডারি ইমন, ভাইগ্না ইয়াসিন, আরমান-শাহরুখ গ্রুপ সহযোগিতা করে আসছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কাইল্লা বাদল হত্যা, সমন্বয়কের ওপর হামলা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ঘটনায় নাম এসেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদপুরের আরেক সন্ত্রাসী লাল্লুর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল রিপন মাস্টার। সম্প্রতি বসিলায় একাধিক ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে মোবাইল ফোনের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় রিপন মাস্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পেছনের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাহ্ নেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে তাকে গুলি করা হয়।
তাকে হাসপাতালে নেওয়া শিক্ষার্থী বলেন, দুই দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে টিটনকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। তখন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। সে সময় আশপাশের লোকজন ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যান। হামলাকারী দুজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরা ছিলেন।
তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন।
এজাহারে সন্দেহভাজন হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ভাঙারি রনির নাম উল্লেখ করা হয়।
বসিলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে টিটনের সঙ্গে পিচ্চি হেলালের বিরোধ চলছিল বলে এজাহারে বলা হয়েছে।