জুলাই অভ্যুত্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় জাতিসংঘ এ তথ্য দেয়নি বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং দলটির সহযোগী সংগঠনের আরও ছয় নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম এ বক্তব্য দেন।
শুনানিতে তামিম বলেন, ‘আইসিটি আইন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে নেওয়া হলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) তাদের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমরা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য পাইনি। এর পরিবর্তে প্রসিকিউশন নিজস্ব প্রত্যক্ষদর্শীদের আদালতে হাজির করেছে।’
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তামিম জাতিসংঘের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, ‘সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল।’
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম আরও জানান, মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছাড়াও সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ তাদের পরিচয়কে সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে গণ্য করে প্রকাশ করেনি।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
পলাতক থাকায় সাত আসামির বিচারই তাদের অনুপস্থিতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
আরএন