For English Version
রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম সারাদেশ

রেকটিফাইড স্পিরিট খেয়ে নিহত ১, আহত ৩

Published : Wednesday, 21 July, 2021 at 8:28 PM Count : 33
অবজারভার সংবাদদাতা

যশোর জেলার চৌগাছায় রেকটিফাইড স্পিরিট খেয়ে জাহাঙ্গীর (৩২) নামে একজনের মৃত্য হয়েছে। এছাড়াও আরো ৩ জন চিকিৎসাধীন।

নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের পূড়াপাড়া গ্রামের মাহাতাব মন্ডলের ছেলে। 

অসুস্থরা হলেন- একই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে হাসান ওরফে সাহেব (৩৫), মৃত আলী মিয়ার ছেলে মশিয়ার (৪০) এবং মৃত মোস্তফার ছেলে আবু বক্কর (২৫)। হাসান ওরফে সাহেব বর্তমানে খুলনা গাজি মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। আবু বক্কর (২৫) যশোর ২৫০ ময্যা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার বাড়ি ফিরেছেন এবং মশিয়ার চৌগাছা থেকে চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে আছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, গত ১৮ জুলাই রাত ৮টার দিকে পূড়াপাড়ার তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে নূরে আলম বকুল ও খোকনের কাছ থেকে রেকটিফাইড স্পিরিট কিনে আনে ভুক্তভোগীরা। পরে নওশেদের বালির গাদার পরিত্যাক্ত ঘরের ছাদে বসে পান করে।

জাহাঙ্গীরের বড় ভাই আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, রবিবার রাত থেকেই জাহাঙ্গীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তিনি ‘বুক জ্বলে গেল’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। স্পিরিট খেয়েছের বলেও জানান। গত মঙ্গলবার সকালে তার অবস্থা বেশি খারাপ হলে প্রথমে চৌগাছা পরে যশোর এবং সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মঙ্গলবার বিকাল ৫ টার দিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মৃত্য সনদ অনুযায়ী জাহাঙ্গীরকে ২০ জুলাই দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার সময় তার মৃত্যু হয়। ম্যাথানল বিষক্রিয়া ও শকের (আঘাত) কারণে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মিথানল বিষক্রিয়া কি জানতে চাইলে যশোর-২ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব) অধ্যাপক ডা. নসির উদ্দিন বলেন, মিথানল বিষক্রিয়া মানে রেকটিফাইড স্পিরিট-এর বিষক্রিয়া।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি বলেন, সাধারণত রেকটিফাইড স্পিরিট পানে হার্ট ফেল করে মৃত্য হলে কারণ হিসেবে এটা লেখা হয়।

রেকটিফাইড স্পিরিট কি?
রেকটিফাইড স্পিরিট হলো ৯৫.৬% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৪.৪% পানির সমস্ফুটন মিশ্রণ। এর স্ফুনাংক ৭৮.১০ সে. । রেকটিফাইড স্পিরিট ডাক্তারি কাজে ও দ্রাবকরুপে ব্যবহৃত হয়। এই স্পিরিট খুবই বিষাক্ত এবং হজমের অনুপযোগী।

সাধারণত বিষাক্ত মেথিলেটেড স্পিরিট ট্যানারি শিল্পে, কাঠের আসবাব রং করার কাজে ব্যবহার হয়। মাত্র ১০ মিলি লিটার (দুই চা চামচের একটু বেশি) স্পিরিট খেলেই চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং যার কারণে মানুষকে অন্ধত্ববরণ করতে হবে। আর বেশি খেলে কোমায় গিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু হবে। সহজলভ্য এবং দাম কম হওয়ায় এই স্পিরিট দিয়ে অবৈধভাবে বিষাক্ত মদ তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন বলেন, আমি এক সময় এ ব্যবসা করতাম। ২০১২ সালে ( সঠিক ২০১১ সালের ১১ ও ১২ নভেম্বর ) চৌগাছায় এই স্পিরিট খেয়ে  ৬ জনের  মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় চানপুর গ্রামের নুর ইসলাম, তার শালা আশা, যশোরের জাকির (মূল বিক্রেতা) ও আমার নামে মামলা হয়। আমি ছিলাম ২ নম্বর আসামি। সেই সময় এস এম হাবিব আমাকে ফাঁসিয়ে মামলা দিয়েছিল। কিন্তু সেই স্পিরিটের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো এসএম হাবিবের ভাই আজু। সেই থেকে আমি আর এ ব্যবসা করি না। এ ব্যবসায় পূড়াপাড়ার বিশিষ্ট মাদক ব্যবসায়ি সাইদুর মুন্সির নাম শোনা যাচ্ছে বলার সাথে সাথে তিনি সাইদুর মুন্সির সাথে কথা বলিয়ে দেন।

তারা দুজনই দাবি করেন রেকটিফাইড স্পিরিট ব্যবসার ঘটনায় থানা পুলিশ তদন্ত করে কিছু পায়নি। মৃত জাহাঙ্গীরের বাড়িতে চৌগাছা থানার এসআই বিকাশ এসেছিলেন। তিনি ওই মৃতের বাড়ি থেকে কি কি যেন লিখে নিয়ে গেলেন। সাইদুর মুন্সি বলেন দাদার সাথে (এসআই বিকাশ) সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনিই (এসআই বিকাশ) আমাকে ফোন করেছিলেন। একাধিক মাদক মামলার আসামি সাইদুর মুন্সি জোর গলায় বললেন, আমার নামে অনেক অনেক মাদক মামলা ছিল। সেসব মামলার কিছু খারিজ আর জামিনে আছি। আমি গত ৬/৭ মাস মাদক ব্যবসা করি না।

তারা দুজনই জানিয়েছেন,ওই দিন নূরে আলম বকুল ভুক্তভোগীদের কাছে স্পিরিট বিক্রি করেছে। আমরা তাকে বার বার ফোন করছি কিন্তু সে ধরছে না।
নূরে আলম বকুলের মুঠোফোনে তিনবার সংযোগের চেষ্টা করা হলে শুধুমাত্র বিভিন্ন গানের ওয়েলকাম টোন শোনা যায়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অপরদিকে চৌগাছা থানার এসআই বিকাশ বললেন, এঘটনার আমি বেশি কিছু তেমন জানি না। ওসি স্যার আমাকে একটু খোঁজ নিতে বলেছিলেন। ওরা নাকি স্পিরিট টিসপিরিট কিছু খেয়ে খুলনায় গিয়ে মারা গেছে। ওরা গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে চিকিৎসাও নিয়েছিল। তবে মাাদক ব্যবসায়ী সাইদুর মুন্সির সাথে তার কোনো কথ হয়নি বলে দাবি করেন এসআই বিকাশ।

চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, পূড়াপাড়ায় একজন মারা গেছে শুনেছি।

-জেডআর/এনএন


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft