For English Version
শুক্রবার, ০৬ আগস্ট, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম সারাদেশ

সীমান্তঘেঁষা নাগেশ্বরীতে ঘরে ঘরে জ্বরাক্রান্ত

Published : Friday, 18 June, 2021 at 5:37 PM Count : 324
অবজারভার সংবাদদাতা

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরীতে ভারত সীমান্তঘেষা গ্রামগুলোসহ উপজেলার সর্বত্রই প্রায় বাড়িতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে জ্বরাক্রান্ত রোগী। এটি সাধারণ সর্দি-জ্বর না করোনা সংক্রমণ এ নিয়ে আতংক বাড়ছে সবার মাঝে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে থেমে থেমে দুই-এক পশলা বৃষ্টি। এরপর প্রখর রোদ ও প্রচন্ড গরম বিরাজ করে দিনের বাকি সময়। চলে সারা রাত। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃতির এ অবস্থায় জ্বরের সংক্রমণ বেড়েছে শহর ও গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে। যারাই আক্রান্ত হচ্ছেন, তারাই জ্বরের তাপমাত্রা, শরীর ও মাথা ব্যাথা এবং অত্যন্ত শারীরিক দুর্বলতায় কাহিল হয়ে পড়ছেন। অন্তত ২/৩ দিন তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা থাকে না বললেই চলে। কিন্তু এটি সাধারন সর্দি জ্বর না করোনা সংক্রমণ এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কুড়িগ্রাম জেলায় সংক্রমণের হার বেড়েই চলছে। ইতোমধ্যে জেলা সদরের ৩টি ওয়ার্ডের গ্রামগুলোতে সাধারণ বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে।
 
করোনার এ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারত সীমান্তঘেষা উপজেলা নাগেশ্বরীতেও।
 
সরেজমিন দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমানা ঘেঁষে রয়েছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারীদের ফসলি জমি। এতে চাষাবাদ করে তারা ফসল উৎপাদন করে। গরু-ছাগলের তৃণভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হয় জমিগুলো। ফলে সেখানে তাদের অবাদ যাতায়াত।
 
অপরদিকে কাঁটাতারের ভেতর ও বাইরে বসবাসকারী অনেক ভারতীয়দেরকেও একই কারণে আন্তর্জাতিক সীমানা ঘেঁষে তাদের অংশে যাতাযাত করতে হয়। পাশাপাশি অবস্থিত দুই দেশের গ্রামগুলোতে বসবাসকারী এ মানুষদের মধ্যে রয়েছে সখ্যতা। অভিযোগ আছে, বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে কোন কোন সময় কাঁটাতারের বাইরে ভারতীয় ও এদেশের সীমান্তবর্তী বাড়ি-ঘরে বসবাসকারীরা নিজেদের আচার অনুষ্ঠানে যাতাযাত করে। আশংকা করা হচ্ছে এতে করেও ছড়াতে পারে করোনার নতুন ধরন বি-১.৬১৭। যা নিয়ে চলছে সচেতন মহলে আতংক।

অন্যান্য বছরের তুলনায় হঠাৎ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে জ্বরের প্রকোপ। কোন প্রকার পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই আক্রান্তরা পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারসিটামল ও কখনো কখনো এন্টিবায়োটিক সেবন করছেন। এতে কেউ অল্পেই সেরে উঠছেন। কেউ ভুগছেন। আবার করোনার ভয়ে অনেকেই তাদের অসুস্থতার কথা চেপে রাখছেন।

গত ৭ দিন থেকে জ্বরে ভুগছেন কেদার ইউনিয়নের বালাবাড়ি গ্রামের গোলাপ উদ্দিনের স্ত্রী দিলজন (৬৫), ৫ দিন ধরে আক্রান্ত একই গ্রামের দিদারুল ইসলামের স্ত্রী শিমু পারভীন (৩০), ৪ দিন ধরে আক্রান্ত ছাত্তার আলী (৬৫), ৩ দিন ধরে তার ছেলে রিয়াজুল (৩০), হাসেন আলীর ছেলে বাবু মিয়া (৩২), নূর মোহাম্মদের ছেলে নূর আলম (৩৫)। ৪ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত একই ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী গ্রামের নূরল হক সরকারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩০), জাকিউল (৩৫)।

তারা বলেন, এগুলা করোনা নোয়ায় বাহে। প্রতিবারেই মানুষের এমন জ্বর-সর্দি হয়।  কিসের করোনা আসিয়া মানুষেক ভয় ধরাইছে। ওষধ খাছি ভাল হয়া যামো। 

একই অবস্থা কচাকাটা ইউনিয়নের তরিরহাট, শৌলমারী, ধনিরামপুর, নায়কেরহাট, রামখানা ইউনিয়নের প্রসাদেরকুটি, দীঘিরপাড়, নাখরাজ, খুনিয়াটারী, মিস্ত্রিটারী, নারায়াণপুর ইউনিয়নের পুর্ব পাখিউরা, উত্তর ঝাউকুটি, পুর্ব বালারহাটসহ সীমান্তবর্তী সব গ্রামের প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে। সেখানে আক্রান্তদের কেউই করোনা টেস্ট না করিয়েই পল্লী চিকিৎসকের চিকিৎসা নিয়ে সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন। এতে করে বোঝার উপায় নেই কে সাধারণ সর্দি-জ্বরে, আর কে করোনা আক্রান্ত। 

কেদার ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এ গ্রামগুলোতে প্রায় প্রতিদিন ২/৪ জন করে মারা যাচ্ছেন। তাদের অনেকের মধ্যে সর্দি জ্বর, কাশি, বুকে ব্যাথাসহ অন্যান্য উপসর্গ ছিল। যেহেতু তাদের পরীক্ষা-নীরিক্ষা হয়নি, তাই সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না, তারা সাধারণ সর্দি জ্বর না করোনা সংক্রমণে মারা গেছেন। এ কারণে আমরা আতংকিত। আক্রান্তদের জরুরি ভিত্তিতে টেস্টের আওতায় আনলে বিষয়টি পরিস্কার হত। তখন মানুষ আরো বেশি সচেতন হতে পারত।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, এখন সিজেনাল ফ্লু চলছে। জ্বর সর্দি হলেই যে করোনা তেমনটি নয়। তবে জ্বর বেশি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া এখন অতি দ্রুত করোনা পরীক্ষা নাগেশ্বরী হাসপাতালে হচ্ছে। কারো সন্দেহ হলে তারা পরীক্ষা করাতে পারেন। আমরা করোনা সচেতনতায় সীমান্তবর্তী গ্রামসহ সম্পূর্ণ উপজেলায় প্রচারণা চালাচ্ছি।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার মধ্যে ৭ উপজেলায় রয়েছে ভারতের সাথে ২৭৮ দশমিক ২৮কি.মি. সীমান্ত। এর মধ্যে নদীসহ সমতল ভূমিতে প্রায় ৩২ কি.মি.সীমান্তে কাঁটাতার নেই।

-কেএস/এনএন


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft