For English Version
বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে ১১ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

Published : Friday, 18 June, 2021 at 12:46 PM Count : 491
তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার লায়নর

জয়পুরহাটেকালাই উপজেলার নয়াপাড়া থেকে শিবসমুদ্র পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি পাকাকরণ না হওয়ায় ১১টি গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন একেবারেই অনুপযোগী হওয়ার কারণে আশপাশের এলাকার মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা আরও বিপদজনক হয়ে পড়ে। 

এরপরও প্রয়োজনের তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার মুখোমুখি পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসী ও পথচারীদের। বহু বছর ধরে কাঁচা সড়কটির সমস্যা সমাধানে নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহেলার কারণে কাঁচা সড়কটি বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসী ও পথচারীদের।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের নয়াপাড়া থেকে শিবসমুদ্র গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি স্বাধীনতার ৫০ বছর যাবৎ সংস্কার ও পাকাকরণের অভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বিয়ালা, ভাওজাপাতার, নয়াপাড়ার, হিমাইল, শিবসমুদ্র, পারকাটা, তাল্লা, বলি-শিবসমুদ্র, গাড়ইল, রায়ভাঙ্গি, পার্বতীপুর গ্রামের অন্তত ১৩ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। রাস্তাটি এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র অবলম্বন। 

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন উপজেলার শত শত কৃষিপণ্য পরিবহন, এ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি, মোটরসাইকেল, বাই-সাইকেল, ভটভটি, ভ্যান, অটো-ভ্যান চলাচল করে। বর্তমান রাস্তাটির একাধিক স্থানে ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি ফলে বর্ষায় একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা মাঝে পানি জমে থাকে। তাছাড়া সেই রাস্তার দু-ধারে নেই কোন পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা। 

নয়াপাড়া থেকে শিবসমুদ্র গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই-কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার মাটি বর্ষার একটু বৃষ্টির পানিতে নরম, পিচ্ছিল হয়ে যায়। এক হাঁটু পরিমাণ কাঁদা, ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টির ফলে কোন যানবাহনই চলাচল করতে পারছে না। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

দ্রুত কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও পথচারীরা।

উপজেলার বিয়ালা-পারকাটা গ্রামের মো. বদিউজ্জামান শেখ অবজারভারকে বলেন, আমরা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করছি। যে কারণে স্বাধীনতার ৫০ বছর হলেও গ্রামীণ এই অবহেলিত কাঁচা রাস্তাটি এখনো পর্যন্ত আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। 

মো. মোজাহার আলী মন্ডল বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হলেও নয়াপাড়া থেকে শিবসমুদ্র পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি আর পাকাকরণ হয়নি। ওই রাস্তাটি বহু বছরের পর বছর ধরে কোন সংস্কারের কাজ এবং পাকাকরণ না হওয়ায় দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি অনেকবার জানানোর পরও কাঁচা রাস্তাটি এখনো বেহাল হয়ে পড়ে আছে।

উপজেলার পারকাটা গ্রামের মো. এরশাদুল হক অবজারভারকে বলেন, এই রাস্তাটি প্রায় ১১টি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন। এটি ছাড়া আমাদের চলাচলের আর কোন রাস্তা নেই। বর্ষাকালে একটু হালকা বৃষ্টি হলেই রাস্তার মাটিগুলো নরম হয়ে কাঁদাময় হয়ে যায়। দিনের বেলায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও রাতে এই রাস্তায় কোন যানবাহন চলাচল করে না। অনেক সময় রাতের বেলায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া খুব কষ্টদায়ক হয়। 

কই গ্রামের কৃষক মো. ইসমাইল হোসেন, মো. মফিজ উদ্দিন আক্ষেপ করে অবজারভারকে বলেন, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা এলাকার উন্নয়নের কথা বলে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভোট নেন। ভোট নেওয়ার শেষে আর তারা আমাদের কোন খোঁজখবর রাখেন না। এলাকার এ কাঁচা রাস্তার ফলে বর্ষাকালে যে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও গবাদিপশু পালন করি, তা বাজারজাত ঠিকমতো করতে পারছি না। যেখানে বাজারজাত করতে পরিবহনের ভাড়ার খরচ ২০ টাকায় হয়, সেখানে ভাড়া নিচ্ছে প্রায় ১শ টাকা। তাছাড়া সময় অপচয়সহ কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু নিয়ে বরাবরই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

ভ্যানচালক মো. মোফা হোসেন ও ভটভটি চালক মো. রফিকুল ইসলাম অবজারভারকে বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়। এ রাস্তা দিয়ে ভ্যান ও ভটভটি চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টি হলে মাটি নরম ও কাঁদাযুক্ত হয়ে অনেক গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হচ্ছে এবং অনেক সময় ভেঙ্গেও যাচ্ছে। তাই রাস্তাটি খুব দ্রুত পাকাকরণ করা হলে সবার জন্য অনেক উপকার হবে।

স্থানীয় মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. নূরনবী মন্ডল অবজারভারকে বলেন, রাস্তার কাজের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে রয়েছে, কিন্তু কেন কাজটি এতো দিন দেরি হচ্ছে তা আমার জানা নেই। 

কালাই উপজেলার এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম অবজারভারকে বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই খুব দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft