For English Version
সোমবার, ২১ জুন, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

ভাঙ্গণে নিঃস্ব যমুনা পাড়ের হাজারো মানুষ

Published : Tuesday, 8 June, 2021 at 6:03 PM Count : 81
অশোক ব্যানার্জী


বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই যমুনা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলাসহ এনায়েতপুর থানার নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতভিটা, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ হয়েছে ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে নদীতীরবর্তী অনেকেই তাদের বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছেন কমপক্ষে ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ দুইশতাধিক বাড়ীঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

ভাঙ্গনকবলিতদের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নদী ভাঙনরোধে আজও কার্যকর কোনো কাজ শুরু করা হয়নি। তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাঙনরোধে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রহণ করা হয়েছে যা একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরোপুরি বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। পানি বৃদ্ধি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলার এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ থেকে শাহজাদপুরের কৈজুরি পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। গত ১০ দিনে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের পাচিল ও হাট পাচিল, একই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাকড়তলা ও এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণ গ্রামে শতাধিক বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সকল এলাকার ভাঙনকবলিতরা সহায়-সম্বল হারিয়ে বাড়ি-ঘর ভেঙে রাস্তার পাশে বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে। পরিবারের নারী-শিশুসহ গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভাঙনে সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষেরা।

এদিকে, যমুনার তীব্র ভাঙ্গনে জেলার চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের হাটাইল, ঘুশুরিয়া, হিজুলিয়া, কাঠালিয়া ও উমরপুর ইউনিয়নের পয়লার প্রায় তিন কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোর বিস্তীর্ণ ফসলি জমিসহ হাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম হাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে এই এলাকাগুলোর নদীতীরবর্তী পশ্চিম সম্ভুদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাস মধ্য শিশুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হিজুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিশ্রিগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারবয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউসুফ শাহি সলঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলজলহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাটাইল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

চৌহালীর ঘুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, নদীভাঙনের কারণে বুধবার (২জুন) সকালে স্কুলঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফিরোজ জানান, নদী ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে কমপক্ষে ১৪টি শিক্ষপ্রতিষ্ঠান। এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভাঙন কবলিত স্থানীয়দের অভিযোগ, এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ থেকে শাহজাদপুরের কৈজুরি পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকা বরাবরই অরক্ষিত। প্রতিবছরেই এই এলাকাগুলোতে দেখা দেয় নদীভাঙন, নিঃস্ব হয় মানুষ। এই এলাকায় গত দশ বছরে ভাঙ্গনের নিঃস্ব হয়েছে হাজারো মানুষ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যথারীতি ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসে বারবার নদী ভাঙন বন্ধে দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি আজও। ফলে বছরের পর বছর নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ফসলি জমি, বসতভিটা হারিয়ে পথে বসেছেন যমুনা পাড়ের হাজারো মানুষ।

নদী ভাঙনকবলিত শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের তবিবুর রহমান জানান, গত চার বছরের ভাঙনে তার জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ হয় শনিবার (২৯ মে) তার শেষ সম্বল ৩০ শতক ফসলি জমি আর বসতভিটা এক সঙ্গে ভাঙতে শুরু করেছে। ঘর-বাড়ি ভেঙে সরিয়ে রাস্তার ঢালে আশ্রয় নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, গত দশ বছরে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাড়ীঘর জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজারো মানুষ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে যখন আমার জমি ভাঙা শুরু হয় তখন থেকেই শুনছি নদীতে বাঁধ দেওয়া হবে। কিন্তু আজও বাঁধ নির্মানের কাজ শুরু হয়নি। কিন্তু আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমার মত অনেকের একই অবস্থা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গন অধ্যুষিত এলাকাগুলোর সার্বক্ষণিক সার্বিক তদারকি করা হচ্ছে।  

তিনি আরও জানান, এনায়েতপুর থেকে কৈজুরি পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার অরক্ষিত নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুতই অনুমোদন হবে। অনুমোদনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে এই এলাকায় আর ভাঙন থাকবে না। তবে ভাঙ্গন রোধে প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে বালির বস্তা ও জিও ব্যাগ প্রস্তত রাখা হয়েছে।

এসআর


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft