For English Version
সোমবার, ২১ জুন, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

অসহায় শিশুদের আশ্রয়স্থল 'বাংলা হোপ'

Published : Sunday, 6 June, 2021 at 2:51 PM Count : 88
শাহাদুল ইসলাম সাজু

অসহায় শিশুদের আশ্রয় স্থলের নাম জয়পুরহাটের 'বাংলা হোপ'। 'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য' এই ব্রত নিয়ে ২০০৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন আমেরিকান দম্পতি ডেভিড ওয়েড এবং বেভারলি ওয়েড। 

তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নে ব্যতিক্রমী এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের সুবিধাবঞ্চিত, এতিম, অনাথ ও অসহায় শিশুদের ভরসার স্থল হিসেবে কাজ করছে। শুধু অনাথ শিশুরা নয় এখানে রয়েছেন দুঃস্থ মহিলারাও।  

সরেজমিনে বাংলা হোপ ঘুরে জানা যায়, আশি’র দশকে কোন এক সময় বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন আমেরিকান দম্পতি ডেভিড ওয়েড ও বেভারলি ওয়েড। এ সময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানোর সময় কিছু শিশু ও মহিলার অসহায়ত্বের চিত্র চোখে পড়ে তাদের। পরবর্তীতে কয়েক দফায় বাংলাদেশে আসেন এবং ঢাকা কেন্দ্রিক কিছু অসহায় শিশুকে লেখাপড়াসহ থাকা খাওয়ায় সহযোহিতা করেন।

এসব শিশু ও মহিলাদের জন্য কিছু করা দরকার এ রকম চিন্তা থেকেই কর্মজীবন শেষে আমেরিকার ওই দম্পতি বাংলাদেশে আসেন। নিজের সহায় সম্পদ, গাড়ি, বাড়ি সব কিছু বিক্রি করে সেই টাকায় জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের নিভৃতপল্লী হাজরাপুর গ্রামে গড়ে তোলেন বাংলা হোপ এতিমখানা। 

এতিম, অনাথ ও অসহায় শিশুদের লালন পালনের পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন করা ও দুঃস্থ মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য। বাংলা হোপ এতিমখানার চার একর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র, চিলড্রেন হোমসহ বিভিন্ন ভবন। যেখানে শুন্য থেকে বিভিন্ন বয়সের ১৬৩ জন অনাথ ও এতিম শিশু বসবাস করছে। তাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করা রয়েছে বাংলা হোপ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেখানে তারা নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ করছে। 

এখানে শিশুদের জন্য রয়েছে ২৪ ঘন্টার রুটিন। সেভাবেই চলে তাদের লেখাপড়া, খাওয়া দাওয়া, ঘুমানো, খেলাধূলা ও বিনোদনসহ নানা কার্যক্রম। এতিম ও অনাথ শিশুদের বাইরে  স্টাফদের ছেলে মেয়েরাও এখানে লেখাপড়া করে থাকে। মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৪ জন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্কুলে ৬৩ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৯৭ জন ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৪ জন ছেলে-মেয়ে। 

এখানে কলেজের অনুমোদন না থাকায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ছেলে-মেয়েরা বাইরের কলেজে লেখাপড়া করলেও থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করে বাংলা হোপ।  এতিমখানার অধিকাংশ শিশুই খ্রিস্টিয়ান সম্প্রদায়ের হলেও এই প্রতিষ্ঠান সকলের জন্য উন্মুক্ত। ছোট শিশুদের লালন-পালনের জন্য এখানে কাজ করে থাকেন ১৮ জন দুঃস্থ মহিলা। তাদের থাকা ও খাওয়া ফ্রি। আবার কাজের জন্য আলাদা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়ে থাকে। 

এতিমখানার শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ সনজয় কিসকু। 

এতিমখানার নানা কাজের জন্য রয়েছেন ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। 

এতিম শিশুদের দেখাশুনা করার দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে বন্দনা বৈরাগী, দুলালী মিনজী ও নমিতা বলেন, ছোট ছোট এতিম ও অনাথ শিশুদের আমরা মায়ের মমতা দিয়ে বড় করার চেষ্টা করি। 

এতে ভাল লাগার কথা জানান দুঃস্থ মহিলারা। 

বাংলা হোপ এতিম খানা সবচেয়ে কম বয়সী হচ্ছে এলাইজা মনোজ দেবশর্মা, বয়স এখন ছয় মাস। 

স্বামীকে হারিয়ে অসহায় অবস্থায় মা মেনুকা দেবশর্মা কোন উপায় না পেয়ে দেড় মাস বয়সের শিশু এলাইজাকে নিয়ে আশ্রয় নেন বাংলা হোপ এতিমখানায়। 

অনাথ মেয়ের লালনপালন করার পাশাপাশি কাজ করে টাকাও আয় করতে পারছেন বলে জানান তিনি। 

এখানে লেখাপড়া, ঘুমানো, খেলাধূলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকায় খুবই খুশি বলে জানায় এতিম ও অনাথ শিশুরা। 

৭ম শ্রেণীতে পড়া মেরি এলা মজুমদার, ৩য় শ্রেণীতে পড়া পোল সরকার, ১০ম শ্রেণীতে পড়া আঁখি হেব্রম ও উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া কিম্বালী বালার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তাদের সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠার গল্প। 

এতিমখানার স্পন্সরশীপ পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা পনুয়েল বাড়ৈ বলেন, বিদেশী দাতাদের আর্থিক সহযোগীতায় এ এতিমখানা পরিচালিত হয়ে থাকে। এখানে চাকরি করা কর্মকর্তা কর্মচারীরাও সামান্য বেতনে কাজ করে থাকেন। এটিও অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমের মতো। এতিম ও অসহায় শিশুদের জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরে ওয়েবসাইটে দাতাদের অবহিত করা হয়। বিদেশী দাতারা অনেকেই টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে, কেউ নানা ভাবে শ্রমের বিনিময়ে টাকা জমা করে এই অনাথ শিশুদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। দাতাদের মধ্যে কেউ ধনাঢ্য ব্যক্তি নেই। একজন অসহায় লোক বোঝেন আরেকজনের অসহায়ের দুঃখ, কষ্ট। সেই থেকে সহৃদয়বান বিদেশী দাতাগণ ওয়েবসাইটে সব কিছু জেনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সহযোগীতা করে থাকেন। পরবর্তীতে শিশুদের প্রগ্রেস সম্পর্কেও দাতাদের অবহিত করা হয়ে থাকে। 

'বাংলা হোপ' এতিমখানার নির্বাহী পরিচালক সুচিত্রা সরেন বলেন, এতিম, অনাথ ও অসহায় শিশুদের লালন পালন করা ও লেখাপড়া শিক্ষিয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এখানে ১৬৩ জন অনাথ শিশুদের লালন পালনসহ লেখাপড়া করছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এসব শিশুর বই-খাতা-কলম, পোষাক, টিফিন ভাতা ও বৃত্তির ব্যবস্থা করে থাকে 'বাংলা হোপ'। 

অসহায় শিশুরা সমাজের বোঝা না হয়ে বাংলা হোপের দেখানো পথ অনুসরণ করে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের উপকারে নিজের জীবন বিলিয়ে দেবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে এই এতিমখানা পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।  

পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল শহিদ মুন্না বলেন, উপজেলার নিভৃত পল্লীতে অনাথ শিশুদের আলোর পথ দেখাচ্ছে ’বাংলা হোপ’ এতিমখানা। এখানকার শিশুরা সমাজের বোঝা না হয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে সমাজের জন্য কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি। 

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft