For English Version
শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম বিনোদন

বলিউডে অন্তরঙ্গ ও যৌন দৃশ্যের নির্দেশনা দেন যে নারী

Published : Sunday, 2 May, 2021 at 11:14 AM Count : 85

হলিউডের অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন সম্প্রতি বলেছেন, ১৯৯২ সালে বেসিক ইন্সটিঙ্কট সিনেমার একটি বহুল আলোচিত দৃশ্যে অভিনয়ের সময় তার সঙ্গে চালাকি করা হয়েছে। ওই দৃশ্যে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি তার এক পায়ের ওপর আরেকটি পা তুলে বসেছিলেন এবং এক পর্যায়ে তিনি একটি পা তুলে নেন।

সম্প্রতি তার একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যাতে তিনি লিখেছেন, এই দৃশ্যটি ধারণ করার আগে তাকে চালাকি করে আন্ডারওয়্যার খুলে ফেলতে বলা হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল যে ‘সেখানে আলো প্রতিফলিত হবে’ এবং তাতে দর্শকরা ‘কিছু দেখতে পারবে না’ বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

কিন্তু পরে তিনিসহ সারা বিশ্বই দেখল যে তারা আসলে অনেক কিছুই দেখতে পারছে।

ছবির পরিচালক পল ভেরহোফেন অবশ্য শ্যারন স্টোনের দাবি অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, ওই দৃশ্যে কী হচ্ছে সেবিষয়ে অভিনেত্রী পুরোপুরি অবহিত ছিলেন। শুধু তাই নয় শ্যারন স্টোনের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা বলারও অভিযোগ তুলেছেন।

তবে শ্যারন স্টোন বলছেন, যা হয়েছিলো তাতে তিনি সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং এই ঘটনায় তিনি একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ন্যক্কারজনক এই ঘটনা কি কোনোভাবে এড়ানো সম্ভব ছিল?

‘খুব সহজেই,’ বলছেন আস্থা খান্না। তিনি ভারতের প্রথম এবং একমাত্র ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর যিনি চলচ্চিত্রে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের নির্দেশক হিসেবে কাজ করেন। ‘আমি যদি সেখানে থাকতাম আমি তাকে গায়ের রঙের সাথে মিলে যায় এরকম একটি আন্ডারওয়্যার দিতাম পরার জন্য।’

উনিশশো নব্বইয়ের দশকে যখন বেসিক ইন্সটিঙ্কট ছবিটি নির্মাণ করা হয় তখন এধরনের ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরের কোনো ধারণা ছিল না। এই ব্যক্তি নগ্ন ও যৌন দৃশ্যের সময় অভিনেতা অভিনেত্রীকে স্বস্তিতে থাকতে সাহায্য করেন।

কিন্তু ২০১৭ সালে সারা বিশ্বের বিনোদন শিল্পে নারীর ওপর যৌন হয়রানি ও সহিংসতার প্রতিবাদে 'হ্যাশট্যাগ মি টু' আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এরকম এক পেশাদার ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

চলচ্চিত্র নির্মাণকারী নেটওয়ার্ক এইচবিও ২০১৮ সালে তাদের দ্য ড্যিউস সিরিজের জন্য এই প্রথম এরকম একজন ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর নিয়োগের কথা ঘোষণা করে। এই সিরিজটি ১৯৭০ এর দশকে নিউ ইয়র্কের যৌন ও পর্ন শিল্পের ওপর নির্মিত। অভিনেত্রী এমিলি মিডের অনুরোধে ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর হিসেবে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরে এই নেটওয়ার্ক থেকে জানানো হয় এখন থেকে তাদের যেসব অনুষ্ঠানে অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকবে সেগুলোর জন্য একজন ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করা হবে। এর পর নেটফ্লিক্স, অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্মও একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে।

এর পর থেকে অনেক স্টুডিও, প্রযোজক এবং পরিচালক তাদের সেটে দৃশ্য ধারণের সময় ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরদের কাজে লাগাচ্ছেন। ভারতেও কয়েক মাস আগে এই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।

ভারতের ২৬-বছর বয়সী ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর আস্থা খান্না বলছেন, তার ‘চাকরিকে একজন অ্যাকশন পরিচালক এবং একজন নৃত্য পরিচালকের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে- যিনি কাজ করবেন সিনেমায় অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের বিষয়ে।’

‘একজন অ্যাকশন পরিচালক অভিনয়ের সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, একজন ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরের কাজ হচ্ছে যেসব দৃশ্যে নগ্নতা, সেক্স এবং যৌন সহিংসতার মতো বিষয় রয়েছে সেসব দৃশ্যে যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,’ মুম্বাই থেকে তিনি একথা বললেন টেলিফোনে।

তিনি বলেন, একজন ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর পরিচালক ও অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন।

‘আমার কাজ হচ্ছে পারফর্মারদের যে অপব্যবহার করা হচ্ছে না সেটা নিশ্চিত করা, একই সঙ্গে যারা ছবিটি তৈরি করছে তাদেরও নিরাপত্তা দেওয়া যাতে পাঁচ বছর পরে গিয়ে কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রী বলতে না পারে যে তাদের খুব খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল।’

সিনেমার যৌন দৃশ্যের অভিনেতা অভিনেত্রীদের সঙ্গে আস্থা খান্না আলোচনা করেন, তাদের মতামত নেন এবং সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের কিছু পোশাক আশাকও সরবরাহ করেন।

আরো যেসব জিনিস সরবরাহ করেন তার মধ্যে রয়েছে তলপেটের নিচের জায়গার নিরাপত্তা দেয় এরকম গার্ড, স্তনের নিপলের জন্য আবরণ, আঠাল বডি টেপ এবং ডোনাটের মতো দেখতে এক ধরনের বালিশ যা পারফর্মারদের মাঝখানে রাখা হয় যাতে সেক্স করার দৃশ্যে অভিনয়ের সময় তাদের যৌনাঙ্গ স্পর্শ না করে।

নারীর ঋতুস্রাব বা মাসিকের ওপর অস্কার বিজয়ী এক শর্ট ফিল্মের প্রযোজক মন্দাকিনি কাকার, যিনি ‘পুরোপুরি অন্তরঙ্গতার ওপর নির্মিতব্য’ তার পরবর্তী ছবির জন্য আস্থা খান্নার সাহায্য নিচ্ছেন, তিনি বলেন, ভারতে সাধারণত মূলধারার চলচ্চিত্রে সেক্স ও নগ্নতা এড়িয়ে চলা হয়, এমনকি চুম্বনের দৃশ্য নিয়েও অনেক ট্যাবু বা সংস্কার রয়েছে, এজন্য নির্মাতারা বলেন যে তারা ‘অ-পারিবারিক’ ছবি বানাতে চান না।

সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং সেন্সর বোর্ডের সতর্ক নজরদারির মধ্যেও বলিউডের সিনেমায় সৃজনশীল উপায়ে সেক্স এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখানো হয়। যেমন, দুটো ফুল একটি আরেকটিকে স্পর্শ করছে কিম্বা দুটো পাখি চুম্বন করছে অথবা এক পাতিল দুধ ফুটতে ফুটতে উপচে পড়ছে অথবা সেক্স বোঝাতে অগোছালো বিছানাও দেখানো হয়।

যদিও ভারতীয় চলচ্চিত্রে গত এক কিম্বা দুই দশকে চুম্বনের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, এখন যৌন দৃশ্য ও নগ্নতা দেখানো হচ্ছে কিছু অনলাইন-ভিত্তিক কিছু স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে, জনপ্রিয়তা ও চাহিদার কারণে।

তবে অভিনেতা অভিনেত্রী, বিশেষ করে নবাগত তরুণী যারা অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে চান তারা অপব্যবহারের শিকার হতে পারেন।

অঞ্জলি সিভারামান একজন মডেল ও অভিনেত্রী, সম্প্রতি তিনি নেটফ্লিক্সের একটি সিরিজেও অভিনয় করতে শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, সেটে আস্থা খান্নার উপস্থিতির কারণে তিনি অনেক বেশি স্বস্তি পাচ্ছেন।

‘আমি খুশি যে আমাকে দেখাশোনার জন্য একজন আছে,’ বলেন তিনি।

‘আমাকে একটি সেক্স দৃশ্যে অভিনয় করতে হচ্ছিল যা আমি এর আগে কখনো করিনি, এমন একজন অভিনেতার সঙ্গে সেটা করতে হচ্ছিল যার সঙ্গে আমার এই প্রথম পরিচয় হয়েছে। আমাকে একটি স্পোর্টস ব্রা এবং আন্ডারওয়্যার পরতে হয়েছে এই দৃশ্যের জন্য, ফলে আমার নিজেকে প্রায় নগ্ন বলেই মনে হচ্ছিল। আমি খুব নার্ভাস ছিলাম।’

‘আমি যার সঙ্গে অভিনয় করছি সে আমার একেবারেই অপরিচিত হওয়ার কারণে তাকে চুমু খেতেও আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। আর এনিয়ে পরিচালকের সঙ্গে আমার কথা বলাও সহজ ছিল না। কারণ তিনি ছিলেন একজন পুরুষ।’

‘কিন্তু আস্থা আমার জন্য এই কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছেন। তিনি আমার উদ্বেগের কথা পরিচালককে জানিয়েছেন এবং পরে ওই চুম্বন দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়। সেক্সের দৃশ্যের সময় তিনি আমাদের মাঝখানে একটি ডোনাট বালিশ রাখেন ফলে আমাদের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেনি। এটা যদিও কিছুটা অদ্ভুত তার পরেও এটা থাকায় আমি খুশি,’ হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

বলিউড তারকা এবং নির্মাতা পূজা ভাট বলছেন, তার অভিনয় জীবনের শুরুতে তার মা অথবা ম্যানেজাররাও তার সঙ্গে সেটে যেতেন যারা একধরনের ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরের মতোই ভূমিকা পালন করতেন।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনার কাজ শুরু করার সময় তিনি তার নিজের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরের প্রয়োজনীয়তার কথা।

‘অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য, আমি এমন লোকজনকে বেছে নেই যারা সেটে অভিনেত্রীর জন্য অস্বস্তির কারণ হবে না। কারণ লোকজন তার দিকে কিভাবে তাকাচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০০২ সালে আমি যখন যৌন কামনা উদ্রেক করে এমন একটি থ্রিলার 'জিসম' তৈরি করছিলাম, আমি বিপাশা বসুকে বলেছিলাম যে একজন নারী ও অভিনেত্রী হিসেবে আমি তোমাকে এমন কিছু করতে বলব না যাতে তুমি অস্বস্তি বোধ করতে পারো।’

‘ছবিতে নগ্নতা ছিল না কিন্তু তাতে যৌনতা ছিল। জন অ্যাব্রাহামকে তার প্ররোচিত করতে হয়েছিল। আমি তাকে বলি এটা এমনভাবে করতে হবে যাতে সেটা বিশ্বাসযোগ্য হয়, তোমাকে দ্বিধা করলে হবে না। কিন্তু তুমি কতদূর কী করবে সেবিষয়ে তুমিই সিদ্ধান্ত নাও।’

ভাট, যিনি 'বোম্বে বেগমস' সিরিজে অভিনয় করেছেন, এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নেটফ্লিক্স সিরিজ, বলছেন তাতে অভিনয়ের সময় সেটে কোনো ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর উপস্থিত ছিল না। তবে তিনি যাতে অস্বস্তি বোধ না করেন পরিচালক অলঙ্কৃতা শ্রীভাস্তাভা সেটা নিশ্চিত করেছিলেন।

‘অলঙ্কৃতা এবং আমি বিস্তারিত আলোচনা করি যে অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো আমরা কিভাবে ধারণ করবো। আমরা পরস্পরকে বিশ্বাস করেছি। পরিচালক এবং সহ-অভিনেতার ওপর আমাদের আস্থা ছিল। কাজ শেষ করে কোন ধরনের খারাপ অনুভূতি নিয়ে আমি বাড়ি ফিরিনি।’

তবে তিনি একমত যে সেটে একজন ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর থাকলে সেটা সাহায্য করবে।

‘এটা একটা ইতিবাচক পরিবর্তন যে নেটওয়ার্কগুলো এখন ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর সেটে রাখার কথা বলছে। অনেক কিছুই বদলে গেছে, এখন আপনি বৈষম্য কিম্বা যৌন হয়রানির শিকার হলে আপনার অভিযোগ করার সুযোগ আছে। আগের তুলনায় এটা অনেক বড় ধরনের পরিবর্তন।’

তবে আস্থা খান্না বলেছেন, তাকে যে সবসময় সবাই স্বাগত জানায় তা নয়। এর পেছনে একটা মৌলিক কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। এছাড়াও অনেক প্রযোজক ও পরিচালক কখনও কখনও মনে করেন যে তিনি হয়তো তাদের পায়ে পাড়া দেবেন।

‘একজন পরিচালক একবার আমাকে বলেছিলেন 'আমি আমার অভিনেতা অভিনেত্রীকে বেশ ভালভাবে চিনি। তারা আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি।' আমাকে না নেওয়ার জন্যই তিনি এসব বলছিলেন।’

‘কিন্তু তিনি আমাকে সেটে না নিয়ে পারছিলেন না কারণ নির্মাণকারী স্টুডিও এটা সুপারিশ করেছিল এবং প্রযোজকও আমাকে নিয়োগ দিয়েছিল। ফলে তিনি আমাকে লোকেশনে নিয়ে যান কিন্তু সারাক্ষণ একটি ভ্যানে বসিয়ে রাখেন।’

‘তাদেরকে যেটা বুঝতে হবে তা হচ্ছে সেটে যখন একটা ছুরি থাকে তখন যেমন একজন স্টান্ট ডিরেক্টরের প্রয়োজন হয় তেমনি আপনার স্ক্রিপ্টে যদি অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকে তার জন্যেও আমাকে প্রয়োজন,’ বলেন তিনি।

ভাট বলেন চলচ্চিত্র নির্মাতারা যখন বলেন যে ‘এটা আমার কাজ’ তখন তিনি বিস্মিত হন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে তাদেরকেও বদলাতে হবে।

‘পরিবর্তন হচ্ছে, তবে ধীরে। এই শিল্পে অল্প কিছু লোক আছেন যারা সেকেলে, মাথা মোটা এবং নিজেদের পরিবর্তন করতে চান না। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আহত করার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে একজন আরেকজনের জন্য দাঁড়াতে হবে, সমর্থন দিতে হবে।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা।

-এনএন


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft