For English Version
শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

উপকূলীয় নদীসমূহে লবণাক্ততা

Published : Tuesday, 27 April, 2021 at 10:11 PM Count : 891
স্বপন কুমার ঢালী

জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে পড়ছে বাংলাদেশ। উপকূলীয় নদীসমূহের লবণাক্ততা ক্রমশ বেড়ে চলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় পানির উৎসগুলো লবনাক্ত হয়ে পড়ায় পানের অযােগ্য হয়ে পড়ছে পানি।

মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে গেলে উপকূলীয় ৭১০ কিলোমিটারের ১৪টি জেলার তিন কোটি ১৯ লাখ দুই হাজার ৯৪৩ জন মানুষসহ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বেড়ে গেছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর পানির উৎসসমূহ বিষাক্ত করে তুলেছে। মিঠা পানির বিভিন্ন নদীতে লবণাক্ত দেখা দিয়েছে। উপকূলের বলেশ্বর, মধূমতি, মাতামুহুরি, পায়রা, বিষখালী, সন্ধ্যা, কচা, সুগন্ধা, কির্ত্তনখোলা, তেতুলিয়া, আগুনমুখা, আন্ধারমানিক, নবগঙ্গা, চিত্রাসহ ৫৭টি খরস্রোতা নদীর পানিনে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে গেছে। এসব খরস্রোতা নদীগুলোতে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে পূর্ণিমা, অমাবশ্যা ও জোয়ার চলাকালীন সময়ে। 

সিইডি, সিসিএফডি, সিআরআইডি ও সিএমপিডি'র তথ্যানুযায়ী, উপকূলের ৫৭টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে পরীক্ষা করা দেখা গেছে ভূ-গর্ভস্থ পানির ৮২ দশমিক ১৪ শতাংশ  ক্ষতিকারক এবং ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ পানি অত্যন্ত ক্ষতিকারক। উপকূলীয় অঞ্চলে গত ছয় মাসে খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে লবণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে শুকনো মৌসুমে বোরো ধান ও অন্যান্য রবি শষ্য সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করতে হয়। 

পানির লবণাক্ততা ও ক্ষতিকারক উপাদান বিদ্যমান এলাকায় লবণ সহিষ্ণু ধান উৎপাদন না করলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। গবাদি পশুর ঘাস উৎপাদন হবে না। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো সরাসরি চাষাবাদের জমির সঙ্গে সংযুক্ত। উপকূলীয় এলাকায় খালগুলোতে চাষাবাদের সুবিধার্থে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রয়্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান খোকন বলেন, ‘লবণাক্ত পানি খাল বা নালা থেকে জমিতে প্রবেশ যাতে না করতে পারে সে জন্য যথাসময় স্লুইসের গেট বন্ধ এবং খোলা রাখা দরকার।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর প্রভাব ও লবণাক্ততার কারণে উপকূলীয় এলাকার জীববৈচিত্র্যেও বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষার্থে সরকারের সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত আলাদা বাজেট প্রণয়ন করা দরকার।’  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল আরাফাত হোসেন মজুমদার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আর পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বেড়েছে। ’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় নদীতে লবণ পানি দেখা দিয়েছে ও পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষ নদী ও পুকুরের দূষিত পানি ব্যবহার করায় ডায়রিয়া ও কলেরাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

মৎস্য গবেষকদের মতে, পানি দূষিত হওয়ার কারণে সামুদ্রিক রিডা ও সিলন মাছের প্রজনন বিলুপ্ত হচ্ছে। এছাড়া গবাদি পশুসহ জীববৈচিত্র্যের অস্থিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে।

-এসকে/এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft