For English Version
শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

প্রভাবশালীদের কাছে নরম আর সাধারণের উপর গরম নেসকো

Published : Saturday, 24 April, 2021 at 12:06 PM Count : 399
শহীদুল ইসলাম শহীদ

পঞ্চগড়ে এক মাস বকেয়া থাকলেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। কিন্তু বছরের পর কোটি কোটি টাকা বকেয়া থাকলেও তা উত্তোলন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। 

প্রভাবশালী, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বড় বকেয়া রয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের এক দু’মাস বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা প্রভাবশালীদের কাছে নরম আর সাধারণ মানুষের উপর গরম। এ যেন এক দেশে দুই নীতি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

সম্প্রতি বিদ্যুতের বকেয়া বিল উত্তোলনে তোড়জোড় শুরু করে নেসকো পঞ্চগড়ের কর্মকর্তারা। এক মাস বিল বাকি থাকলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি শুরু করেছে তারা। কিন্তু বিরাট অঙ্কের বিল বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও তা উত্তোলনে তেমন কোন প্রদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। 

নেসকো সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে পঞ্চগড় পৌরসভার। নেসকোর হিসেবে তা প্রায় ৫ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন না বলেও তাদের অভিযোগ। এরপরেই রয়েছে মসজিদ মাদ্রাসা। জেলা শহরের বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মাদ্রাসার বিদ্যুৎ বিল সর্বনিম্ন এক লাখ থেকে ২০ লাখ পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। 

চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ২০ লাখ টাকা, আব্দুল কাদের জিলানী জামে মসজিদের ১৬ লাখ টাকা, দারুল উলুম মসজিদের ১৪ লাখ টাকা, দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম মাদ্রাসার ১০ লাখ টাকা, বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ১২ লাখ টাকা, গোরস্থান জামে মসজিদের ১৩ লাখ টাকা, খান বাহাদুর জামে মসজিদের ১৪ লাখ টাকা, স্টেডিয়াম রোড জামে মসজিদের ১২ লাখ টাকা, নতুনবস্তি হাজী ইসমাইল জামে মসজিদের ১৬ লাখ টাকা, বানিয়াপাড়া জামে মসজিদের ১৬ লাখ টাকা, বকুলতলা জামে মসজিদের ১০ লাখ টাকা, পশ্চিম জালাসী জামে মসজিদের ১৬ লাখ টাকা, পূর্ব জালাসী জামে মসজিদের ১৬ লাখ টাকা, কালেক্টরেট জামে মসজিদের সাত লাখ টাকা, রামেরডাঙ্গা জামে মসজিদের নয় লাখ টাকা, নতুনবস্তি জামে মসজিদের আট লাখ টাকা, নুরানি তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার দুই লাখ টাকাসহ শতাধিক মসজিদ মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। গত দুই মাসে এই অঙ্ক আরও বেড়েছে। আবার কিছু মসজিদ এখনো চলছে মিটার ছাড়াই। তার মধ্যে পঞ্চগড় বাসস্ট্যান্ড মসজিদ একটি। 

বড় বকেয়ার তালিকায় রয়েছে সরকারি বাসভবন ও প্রতিষ্ঠানের নামও। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আবাসিকে বকেয়া রয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা, গণপূর্তের আবাসিকে চার লাখ টাকা, জেলা শহরের উপজেলা ট্যাক্স অফিসে বকেয়া রয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার টাকা, জেলা জুডিশিয়াল জাজ হাউজে ৮৬ হাজার টাকা, জেলা ক্রীড়া সংস্থায় এক লাখ ৫৭ হাজার টাকা, অফিসার্স ট্রেনিং কমপ্লেক্স ডিসি কলোনিতে চার লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এশিয়া ডিস্টিলারিজে চার লাখ টাকা ও গ্রিন এনার্জি টি ফ্যাক্টরিতে সাড়ে সাত লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও তা উত্তোলন করতে পারেনি নেসকো। 

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, নেসকোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে এভাবেই দিব্যি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চলেছেন বকেয়াধারীরা। 

পঞ্চগড় সদরের নেসকোর গ্রাহক তানজিরুল ইসলাম বলেন, নেসকো খামখেয়ালিপনা শুরু করেছে। আমার মিটারের রিডিংয়ের চেয়ে অতিরিক্ত বিল দিয়েছে। আবার কেউ এক দুই মাস বিল বাকি রাখলে তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। কিন্তু বছরের পর বছর যারা লাখ লাখ টাকা বকেয়া রেখেছে তাদের ধরতে পারছে না। তারা প্রভাবশালী বলে তাদের কিছু বলে না, যত নিয়ম শুধু সাধারণ মানুষের জন্য। 

দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম মাদ্রাসার মুহতামিম সাইফুর রহমান বলেন, আমাদের মাদ্রাসাই চলছে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। শিক্ষার্থীদের কাছ নেয়া সামান্য বেতন দিয়েই মাদ্রাসার সব কাজ চলে। আমাদের অন্য কোন আয়ের উৎস না থাকায় বকেয়া পড়তে পড়তে বিদ্যুৎ বিল এই পর্যায়ে এসেছে। আমরা চাই সরকার যেন মসজিদ-মাদ্রাসার বিদ্যুৎ বিল মৌকুফের ব্যবস্থা করেন।

পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নতুন একটি ট্রান্সফরমারের জন্য আবেদন করেছি। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে একটু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বকেয়া বিলগুলো মওকুফের জন্য আবেদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এত টাকা বিদ্যুৎ বিল দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। বকেয়া নিয়ে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেলেই আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবো। 

পঞ্চগড় পৌরসভার সচিব মজিবর রহমান বলেন, নেসকো যতটা বকেয়ার কথা বলছে তা ঠিক নয়। আমরা অন্য পৌরসভাগুলোতেও খবর নিয়েছি। তাদের তুলনায় আমাদের বিদ্যুৎ বিল বেশি করা হচ্ছে। মিটারেও সমস্যা রয়েছে। আমরা বিষয়টি নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে বসার কথা রয়েছে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা বকেয়া বিল পরিশোধ করতে পারছি না।  

নেসকো পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি যোগদান আগেই এসব বকেয়া পড়ে গেছে। আমি মিটার ছাড়াই চলতো এমন ৫৩টি মসজিদে মিটার লাগানোর ব্যবস্থা করেছি। অনেক বাঁধা এসেছে। অনেকে ইয়াহুদি বলেও গালি দিয়েছে। পৌরসভার বিল নিয়ে একটু জটিলতা তৈরি হয়েছে। তারা মিটার ছাড়াই অনেক দিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। সেটি আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। এছাড়া যাদের বড় বকেয়া যাদের রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft