For English Version
শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম Don't Miss

শান্তিরক্ষীদের ‘যৌনসঙ্গী’ যোগানোর ব্যবসার খবর ফাঁস হয়েছিল যেভাবে

Published : Monday, 12 April, 2021 at 10:23 AM Count : 118

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষার ইতিহাসে একটা কালো অধ্যায় ছিল ১৯৯০-এর দশকে যখন আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী আর আন্তর্জাতিক পুলিশের বিরুদ্ধে পূর্ব ইউরোপে নারী পাচার ও তাদের যৌনকর্মী হতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়।

এমন অভিযোগও ওঠে যে বসনিয়ায় সেসময় নারী পাচার চক্রের কাজকর্ম ফাঁস করেছিলেন যারা, জাতিসংঘ মিশনে এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ টাস্ক ফোর্সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ে তাদের চাকরিও খোয়াতে হয়েছিল।

ম্যাডেলিন রিস ছিলেন ১৯৯৭ সালের শেষ দিকে বসনিয়ায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন অফিসের প্রধান। এই চক্রের কথা প্রথম যারা ফাঁস করেন, তিনি ছিলেন তাদের একজন।

ব্রিটিশ এই মানবাধিকার আইনজীবী বিবিসির ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠানে বলেছেন বসনিয়ায় তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবার পর তাকে বদলি করে দেয়া হয় জেনিভায় এবং জানানো হয় তার চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না।

ম্যাডেলিনের ধারণা ওই চক্রের কথা ফাঁস করে দেয়াই ছিল এর পেছনে মূল কারণ।

অর্ধনগ্ন নারী উদ্ধার
বসনিয়ায় তখন তিক্ত গৃহযুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে।

ম্যাডেলিন বলেন, সেসময় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অর্ধনগ্ন কয়েকজন নারীকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, এই নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্নভাবে অপহরণ করা হয়েছিল। তাদের ওপর চালানো হয়েছিল পাশবিক নির্যাতন এবং এনে তোলা হয়েছিল এধরনের ঘুপচি বাসায়।

‘সেখানে তাদের পাহারা দিয়ে রাখা হতো। ভয়ানক নির্যাতনের শিকার এই সব মেয়েদের মধ্যে ১১ বছরের কিশোরীও ছিল। চিন্তা করুন, এইসব কাজ করা হতো আন্তর্জাতিক কর্মীদের নারী সঙ্গ যোগানোর জন্য,’ বলেন মিজ রিস।

বসনিয়ায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ১৯৯৫ সালে এক শান্তি চুক্তি হবার পর দেশটিতে তখন হাজার হাজার শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে, সেখানে গিয়ে ঘাঁটি গেড়েছে প্রচুর আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন ধরনের কর্মী।

ম্যাডেলিন রিস বলেন, যুদ্ধ পরবর্তী বসনিয়ায় তখন যে নারী পাচার ও নারীদের এমন রমরমা দেহ ব্যবসা চলছে, একথা কারো মাথায়ও আসেনি।

‘দেশটিতে সংঘাত সবে থেমেছে, সবাই তখন স্বজনের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তখন সেখানে তলে তলে যে এধরনের সংগঠিত অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে, সে খোঁজ কারো কাছেই ছিল না।’

তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে শোনা যেত, বসনিয় ভাষা জানে না এমন মেয়েদের গণিকা হিসাবে কাজ করার দায়ে স্থানীয় বিচারকদের এজলাসে তোলা হয়েছে।

এমন খবরও আসত যে, তাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানোর কিছুদিনের মধ্যেই আবার তারা আবার ফিরে যাচ্ছে বসনিয়ায়।

মিজ রিস জানান, এই নারীদের কেউ কেউ যখন স্থানীয় বসনিয় কিছু নারী সংগঠনকে তাদের কাহিনি বলতে শুরু করে, তখনই আসল সত্যটা জানাজানি হয়।

প্রতারণার ফাঁদ
তখন বার্লিন প্রাচীরের পতন হয়েছে। পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির খুবই ভঙ্গুর অবস্থা। চরম দারিদ্র পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশে এবং মানুষ তখন কাজের জন্য যে কোন দেশে পাড়ি জমাতে তৈরি।

বসনিয়ায় মুসলিম, ক্রোয়াট ও সার্বদের মধ্যে তিক্ত গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৯২ সালে, যা শেষ হয়েছিল ১৯৯৫-এ

ম্যাডেলিন রিস বলছেন, তখন বিজ্ঞাপন দেয়া হয় যে হোটেলে কাজ করার জন্য, বা চুল কাটার কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আরও নানা ধরনের কাজের বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব মেয়েদের প্রতারিত করা হয়।

‘আমি যেসব নারীর সাথে কথা বলেছি তারা ভেবেছিল তারা একটা নতুন জীবন শুরু করতে সেখানে যাচ্ছে। এই নারীদের বিদেশে কাজের সুযোগ করে দেবার কথা বলে প্রতারণা করা হয়।’

বসনিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রথমেই তাদের পাসপোর্ট নিয়ে নেয়া হতো, বলছেন মিজ রিস। ‘তাদের ভুয়া পাসপোর্ট দেয়া হতো। ফলে বসনিয়ায় ঢোকামাত্রই তারা সেখানে অবৈধ হয়ে যেত।

‘এরপর তাদের ওপর চালানো হতো অকথ্য নির্যাতন - মূলত যৌন নির্যাতন, যাতে নির্যাতনের মুখে তারা ভেঙে পড়ে। তাদের ফিরে যাবার কোন পথ না থাকে। অসহায় এসব মেয়েকে গণিকাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো।’

স্থানীয় গবেষকরা জানান এই নারীদের বিভিন্ন ক্রসিং পয়েন্ট দিয়ে বসনিয়ায় ঢোকানো হয়। যেমন বসনিয়ার শহর বেইলিনা আর সার্বিয়ার মাঝখানের নদীপথ দিয়ে।

সংঘাত বন্ধ করতে নেটো এই নদীর ওপরের সেতু উড়িয়ে দিয়েছিল। গবেষকরা দেখেছেন সেখান দিয়ে নারীভর্তি নৌকা ঢুকছে বেইলিনায়। সেখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অ্যারিজোনা মার্কেটে।

‘যৌনদাসীদের’ বাজার
যুদ্ধের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য চালু রাখতে বসনিয়ায় এই বাজার তৈরি করেছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

বসনিয়ার ব্রাকোতে অ্যারিজোনা বাজার। যুদ্ধের পর মুসলিম ও সার্বদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন উৎসাহিত করতে এই বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিল আমেরিকার এসফোর বাহিনী- ডিসেম্বর ১৯৯৭

ম্যাডেলিন বলছেন, পরে এই বাজার ইউরোপের সবচেয়ে বড় কালোবাজারে পরিণত হয়। ‘যৌনদাসী’ ব্যবসার একটা কেন্দ্র হয়ে ওঠে ওই বাজার।

‘সেখানে নারীদের পণ্য হিসাবে হাজির করা হতো। নারী কেনাবেচা হতো সেখানে। তারপর দু’তিনজন করে সেই নারীদের বসনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় চালান করে দেয়া হতো। তাদের রাখা হতো কখনও কফির দোকানের ওপরতলার ঘরে, কখনও পেট্রল স্টেশনের ছাদের ঘরে- গাদাগাদি অবস্থায়- জঘন্য সব খুপরি ঘরে,’ বলেন মিজ রিস।

‘ওইসব ঘরে পুরুষরা মেয়েদের বন্দুকের পাহারায় রাখতো। এদের মধ্যে কোন কোন নারী পরে সাক্ষ্য দেবার সময় বলেছেন, কীভাবে পালিয়ে যাওয়া মেয়েদের আবার ধরে এনে তাদের চোখের সামনে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে- এটা বুঝিয়ে দিতে যে পালানোর পরিণাম কী হতে পারে।’

মিজ রিস বলেন এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে অর্থ রোজগার করা।

‘স্থানীয় মানুষ তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল না। কারণ ওইসব জায়গায় যাওয়া এবং এই যৌনকর্মীদের পেছনে খরচ করার সঙ্গতি তাদের ছিল না। একজন নারীর সঙ্গের জন্য খরচ দিতে হতো ১০০ ইউরো। দিনে এক একজন মেয়েকে ১০ থেকে বিশবার যৌনকাজ করতে বাধ্য করা হতো। বুঝতেই পারছেন এই নারীদের ব্যবহার করে এই যৌন ব্যবসায়ীরা কী পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতো!’

গোপন গণিকালয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়
ম্যাডেলিন যখন বসনিয়ায় পৌঁছন, তখন এই গোপন গণিকালয়গুলোর কথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রায় সবাই জানত।

ম্যাডেলিন রিস বলেন, আন্তর্জাতিক পুলিশ টাস্ক ফোর্সের সাথে মানবাধিকার দপ্তরের যেসব কর্মী কাজ করতেন, তাদের কাছে এই গণিকালয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা হাসাহাসি শুরু করতেন।

ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী ম্যাডেলিন রিস মানবাধিকার নিয়ে তার কাজের জন্য ব্রিটেনের রানির সম্মাননা পান ২০১৪ সালে। পদক হাতে মিজ রিস

ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী ম্যাডেলিন রিস যিনি গৃহযুদ্ধের পর বসনিয়ায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন অফিসের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন

‘তারা হেসে আমাকে বলেছিলেন, গণিকালয়গুলো কোথায় তা জানা তো খুবই সহজ। জাতিসংঘের গাড়িগুলো তো এসবের বাইরেই পার্ক করা থাকে!’

তবে ম্যাডেলিন বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার এসব কর্মী তাকে বলেছিলেন, তারা জানতেন না যে এরা পাচার হওয়া নারী। তারা কখনও জানতেও চাননি।কিন্তু এই গণিকালয়গুলোর ব্যবসা ছিল রমরমা।’

ম্যাডেলিন রিস যখন এ বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেন, তিনি এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যাতে শান্তিরক্ষী সৈন্য এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক কর্মীরা নামপরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে পারেন।

ম্যাডলিন বলেন আন্তর্জাতিক পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য তাকে বলেছিলেন, বসনিয়ায় নামার পর তার সহকর্মীরা প্রথমেই তাকে কয়েকটি গণিকালয়ের সন্ধান দেন।

‘তিনি কোথায় থাকবেন সেখানে নিয়ে যাবার আগে ওই অফিসারকে তার সহকর্মীরা প্রথমে কয়েকটা গণিকালয়ের সামনে নিয়ে গিয়ে বলে প্রতি শনিবার আমরা এখানেই রাত কাটাই। শুনে তিনি চমকে উঠেছিলেন। তবে তিনি একটা শক্ত অবস্থান নেন এবং সেখানে যেতে অস্বীকার করেন।’

জাতিসংঘের সাবেক একজন শান্তিরক্ষী ২০০৬ সালে বিবিসিকে বলেন বসনিয়াতে সেসময় তিনি কী দেখেছেন: ‘এই মেয়েদের আমার সহকর্মীরা ‘যৌনদাসী’ বলে ডাকত। বলতো ওদের গণিকালয় থেকে আনা হয়েছে আর তারাই তাদের মালিক। ওই মেয়েরা তাদের কথা না শুনলে সার্বিয়ান মাফিয়াদের কাছে তাদের অর্ধেক দামে ওরা আবার বিক্রি করে দেবে বলে বলতো।’

পাচারচক্রের সাথে যোগসাজশ
ম্যাডেলিন রিস জানান, আন্তর্জাতিক পুলিশ টাস্ক ফোর্সের পাঁচজন সদস্য একবার একটি গণিকালয়ে হানা দিয়ে অভিযান চালিয়ে ২১ জন মেয়েকে উদ্ধার করে। ওই অফিসাররা হিরো হয়ে ওঠে এবং তাদের উদ্যোগ প্রচুর প্রশংসিত হয়।

রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানে ১৯৯৫ সালে এক শান্তি চুক্তি হবার পর বসনিয়ায় হাজার হাজার শান্তিরক্ষী সেনা মোতায়েন করা হয়, সেখানে কাজ করতে যান প্রচুর আন্তর্জাতিক কর্মী

‘কিন্তু জাতিসংঘ এই ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত চালানোর পর জানা যায় ওই অফিসাররা হিরো তো নয়ই, বরং তারাই গণিকালয়ের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নিত।’

‘তদন্তকারীরা তথ্যপ্রমাণ হাজির করেন যে, পাচারচক্রটির সাথে ওই অফিসারদের ব্যাপক যোগসাজশ রয়েছে। গণিকালয়ের মালিকদের কাছ থেকে তারা ঘুষ নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। অপরাধীদের সুরক্ষা চক্রের অংশ ছিল তারা।’

ওই গণিকালয় থেকে উদ্ধার করা নারীদের রাজধানী সারায়েভোতে একটি আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মাটির নিচের একটি ঘরে ম্যাডেলিন দেখা পান ১১বছরের একটি কিশোরীর।

‘ফুটফুটে সুন্দর ছোট্ট মেয়েটি প্যাকেট থেকে ক্রিস্প খাচ্ছিল। সরল বাচ্চা মেয়েটিকে দেখে আমার ভীষণ কষ্ট লাগছিল। গণিকালয়ে পুরুষরা তার ওপর যৌন অত্যাচার চালিয়েছে শুনে রাগে আমার গা কাঁপছিল! পাসপোর্টে তার বয়স লেখা - ১১। দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ নিয়ে যাওয়া শান্তিরক্ষীর ইউনিফর্ম পরা পুরুষ ওই ১১ বছরের কিশোরীকে যৌনকাজে ব্যবহার করেছে! অভাবনীয়! জঘন্য!’ বলেন ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী ম্যাডেলিন রিস।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আচরণ
বসনিয়ায় কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্ত চালিয়েছিল জাতিসংঘ। বেশ কিছু অফিসার এবং মিশনের একজন কর্মকর্তাকে সরিয়েও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক পুলিশ বাহিনীর অফিসারদের সংশ্লিষ্টতার খবর কর্তৃপক্ষ মেনে নিতে পারেনি বলে জানান মিজ রিস।

তিনি বলেন, বসনিয়ায় আন্তর্জাতিক পুলিশ টাস্ক ফোর্সের কাজ নিয়ে একজন আমেরিকান মানবাধিকার তদন্তকারী ২০০১ সালে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন তাদেরই কোন কোন সহকর্মী নথিপত্র জাল করে সীমান্ত চৌকি দিয়ে নারী পাচারের কাজ করছে এবং যৌন ক্লাবের মালিকদের হাতে এইসব নারীদের খবর তুলে দিচ্ছে।

কিন্তু বসদের এই খবর দেবার পর ক্যাথরিন বলকোভিৎস নামে ওই তদন্তকারীকেই তার কাজ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

টরন্টোয় হুইসলব্লোয়ার চলচ্চিত্রের প্রেমিয়ার শো-তে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পুলিশ বাহিনীর সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা ক্যাথরিন বলকোভিৎস। বসনিয়ার যৌন ব্যবসায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বইটির লেখিকা তিনি।

ম্যাডেলিন বলছেন তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে তাকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে- এই খবর শোনার পর তিনি জাতিসংঘ মিশনের প্রধানের সাথে দেখা করেন।

‘আমি বললাম ক্যাথরিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় তদন্ত করছে। সে খুবই ভাল কাজ করছে। আমাদের উচিত তাকে সাহায্য করা, তার পেছনে থাকা। মিশনের প্রধান প্রচণ্ড খেপে গেলেন। আমার ওপর প্রচণ্ড চেঁচামেচি করে বললেন, ‘আমি এই মিশনের প্রধান- তাকে আমি সরিয়ে দিয়েছি। তাকে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নই ওঠে না। সে ফিরবে না।’ আমার তদ্বিরের সেখানেই ইতি।’

ক্যাথরিন বলকোভিৎসকে বেসরকারি যে মার্কিন কোম্পানি বসনিয়ায় কাজে নিয়োগ করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে তাকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করার মামলায় ক্যাথরিন জেতেন ম্যাডেলিন রিসের সহায়তায়।

ক্যাথরিন বলকোভিৎস তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লেখেন ২০১০ সালে। তার বইটি নিয়ে তৈরি হয়েছিল ছায়াছবি ‘দ্য হুইসলব্লোয়ার’। যেখানে ম্যাডলিনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বসনিয়ায় ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন ম্যাডেলিন রিস। তিনি বলেন তার ধারণা ওই চক্রের কথা ফাঁস করে দেয়ার কারণে জাতিসংঘে তার কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়।

ম্যাডেলিন রিস বলেন ‘আমার তাতে কোন সমস্যা নেই। আমি মানবাধিকার আইনজীবী। কেউ অন্যায় করলে সেটা তুলে ধরাই আমার কাজ। সেটা আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি তার ভেতরে হোক বা বাইরে হোক। কারোরই পার পাওয়া উচিত নয়,’।

তিনি এখন উইমেন্স ইন্টান্যাশানাল লিগ ফর পিস অ্যান্ড ফ্রিডমের মহাসচিব।

তার সাথে কথা বলেন বিবিসির লুইস হিডালগো। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

-এনএন


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft